বিশাখাপত্তমে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ডাবল সেঞ্চুরি করেন মায়াঙ্ক আগারওয়াল। এবার বাংলাদেশের বিপক্ষেও প্রথম ম্যাচে দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পান এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ৯৯তম ওভারের পঞ্চম বলে মেহেদী হাসান মিরাজকে ছয় মেরে দুইশ পূর্ণ করেন তিনি, ৩০৩ বল খেলে ২৫ চার ও ৫ ছয়ে। সবশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, ৯৯ ওভারে ৪ উইকেটে ৩৬৫ রান ভারতের। মায়াঙ্ক আগারওয়ালের সঙ্গে ক্রিজে আছেন রবীন্দ্র জাদেজা।

আবারাে ব্রেক থ্রু এনে দিলেন সেই রাহী

১৮৬ বলে ১৯০ রানের জুটি! টেস্টে বাংলাদেশের সামনে বড় লিড এনে দিলেন মায়াঙ্ক-রাহানে এই জুটি! মায়াঙ্কের সঙ্গে টাইগার বোলারদের বেধড়ক পেটাচ্ছিলেন রাহানেও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চোখ রাঙানো রাহানেকে ফেরালেন আবু জায়েদ রাহী। এখন পর্যন্ত এই টেস্টে ভারতের চারটি উইকেটের পতন ঘটেছে; যার সবকটি উইকেটই পেয়েছেন সিলেটের কৃতি সন্তান রাহী।
১৭২ বলে ৮৬ রানে ডিপ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা তাইজুল ইসলামের কাছে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রাহানে। তার ইনিংসটি ছিল ৯টি চারের সমন্বয়ে। এই রিপোর্ট লেখা অবধি ৮৯ ওভারে ভারতের সংগ্রহ ৪ উইকেট হারিয়ে ৩২৭ রান। উইকেটে আছেন মায়াঙ্ক আগারওয়াল (১৭০) এবং জাদেজা (৬)। প্রথম ইনিংসে ভারত এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছে ১৭৭ রানে।

লিডের পর বড় সংগ্রহের পথে ভারত

বাংলাদেশের ১৫০ রানের জবাবে প্রথম দিন শেষে ভারতের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ৮৬ রান। মায়াঙ্ক আগারওয়াল ৩৭ ও পুজারা ৪৩ রান নিয়ে হলকার স্টেডিয়ামে আজ দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেন; কিন্তু দিনের শুরুতেই ভারতীয় শিবিরে হানা দেন আবু জায়েদ রাহী। ৭২ বলে ৫৪ রান করা পুজারাকে ফেরান তিনি।
এরপর উইকেটে আসেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি; কিন্তু উইকেটে নেমে থিতু হতে পারেননি ভারতীয় কাপ্তান। রাহীর বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে কোনো রান করেই ফিরে যান এই ব্যাটসম্যান।
দলীয় ১১৯ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ভারতের রানের চাকা কিছুটা ধীর হয়ে পড়লেও মায়াঙ্ক আগারওয়াল এবং আজিঙ্কা রাহানের ব্যাটে মজবুত ইনিংস গড়ার পথে ভারত। রাহী-ইবাদতের পর স্পিনার ব্যবহার করেন অধিনায়ক মুমিনুল। মেহেদী হাসান মিরাজ এবং তাইজুল ইসলাম বোলিংয়ে আসলেও ভারতের এই দুই ব্যাটসম্যানকে কাবু করতে পারছেন না।
এরই মধ্যে সেঞ্চুরির পথে আছে মায়াঙ্ক আগারওয়াল। ১৬৬ বলে ৯১ রানে উইকেটে আছেন তিনি। ১ম ইনিংসে বাংলাদেশের দেওয়া ১৫০ রানের জবাবে লিড নিয়েছে ভারত। এই রিপোর্ট লেখা অব্দি ভারতের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৮৮ রান।

কোহলিকে শূন্যতেই ফেরালেন রাহী
দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই ভারতীয় শিবিরে জোড়া আঘাত হানলেন আবু জায়েদ রাহী। ফেরালেন ভারতের ‘বিগ ফিশ’ বিরাট কোহলিকে। এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে শূন্য রানে ফিরে গেলেন ভারতীয় অধিনায়ক। রাহীর অফ স্টাম্পে পিচ করে ভেতরে ঢোকা বল ফ্রন্টফুটে খেলতে গিয়ে মিস করেন কোহলি। বল লাগে তার প্যাডে। এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। রিভিউ নেবেন কি না, এ নিয়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে চলছিল আলোচনা। স্টাম্প মাইকে শোনা যাচ্ছিল উইকেটকিপার লিটন দাস বলছেন, ইম্প্যাক্টটা বাইরে কি না বুঝতেসি না। অধিনায়ক মুমিনুল হক তারপরও নেন রিভিউ। দেখা গেল, ইম্প্যাক্ট লাইনেই ছিল, বল লাগছিল লেগ স্টাম্পে। উল্লাসে ভাসল বাংলাদেশ। উইকেটে আছেন মায়াঙ্ক আগারওয়াল (৫৮) এবং আজিঙ্কা রাহানে (১৪)।
ভারত স্কোর: ১৩৪/৩ (৩৬.৩ ওভার)

শুরুতেই রাহীর আঘাত

দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই ভারত শিবিরে হানা দেন আবু জায়েদ রাহী। ইনিংসের ২৯তম ওভারের পঞ্চম বলে স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা সাইফ হাসানের কাছে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান চেতেশ্বর পূজারা। যাওয়ার আগে ৭২ বলে ৫৪ রান করেছেন এই ভারতীয় ব্যাটসম্যান।
পুজারার ফিফটি
জীবন পাওয়ার বলে বাউন্ডারি পেয়েছেন পুজারা। পরের বলেই আলগা বল পেয়ে আরেকটি বাউন্ডারিতে তিনি পৌঁছে যান ফিফটিতে। ৬৮ বলে পুজারা স্পর্শ করলেন টেস্ট ক্রিকেটে তার ২৩তম ফিফটি। সঙ্গে সেঞ্চুরি আছে ১৮টি।
প্রথম দিন শেষে সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৫৮.৩ ওভারে ১৫০ (সাদমান ৬, ইমরুল ৬, মুমিনুল ৩৭, মিঠুন ১৩, মুশফিক ৪৩, মাহমুদউল্লাহ ১০, লিটন ২১, মিরাজ ০, তাইজুল ১, আবু জায়েদ , ইবাদত ; ইশান্ত ১২-৬-২০-২, উমেশ ১৪.৩-৩-৪৭-২, শামি ১৩-৫-২৭-৩, অশ্বিন ১৬-১-৪৩-২, জাদেজা ৩-০-১০-০)।
ভারত ১ম ইনিংস: ২৬ ওভারে ৮৬/১ (মায়াঙ্ক ৩৭*, রোহিত ৬, পুজারা ৪৩*; ইবাদত ১১-২-৩২-০, আবু জায়েদ ৮-০-২১-১, তাইজুল ৭-০-৩৩-০)।