মামলায় জিতে নির্বাচনী ফল উল্টে দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্সি ধরে রাখতে পারবেন, তেমন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সুতরাং তাঁর বিদায় নিশ্চিত। সেই নিশ্চিত বিদায়টা ভীষণ গোলমেলে করে তুলবেন এবং এই লক্ষ্যে তিনি বাকি দিনগুলোতে নিজের ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করবেন, এমন ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

ঝড়ের শুরুটা এরই মধ্যে করেছেনও বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত সোমবার তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপারকে বরখাস্ত করেছেন। এরপর হয়তো তিনি সিআইএ পরিচালক জিনা হাসপেল ও এফবিআই পরিচালক ক্রিস্টোফার রেকে বরখাস্ত করবে। এসপারের বরাত দিয়ে সিএনএনকে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, যিনি এরই মধ্যে বরখাস্ত হয়েছেন এবং যাঁরা বরখাস্ত হতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁদের সবার অপরাধ একটাই—ট্রাম্পের নির্বাচনী স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে তাঁরা জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছেন।

প্রেসিডেন্সি ক্ষমতার অন্যান্য অপব্যবহারও করছেন ট্রাম্প। প্রথা অনুযায়ী আসন্ন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর সহযোগীদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা থাকলেও উল্টো সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করছেন তিনি।

অথচ নির্বাচনে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্ধারিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের সেই প্রক্রিয়া শুরুর রেওয়াজ রয়েছে।

ট্রাম্পের আরো বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হোয়াইট হাউস ছাড়ার আগেই ট্রাম্প অস্থিতিশীল আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনাকে দেশে ফিরিয়ে আনবেন, এমনকি এশিয়াজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকায় মৌলিক পরিবর্তন আনবেন। সত্যিই তেমন কিছু ঘটলে পরিস্থিতি পাল্টানো জো বাইডেনের জন্য কঠিন হবে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা।

ঝামেলা যে শুধু ট্রাম্পই পাকাবেন, তা নয়। তাঁর অনুগত রিপালিকানরাও এতে অংশ নিতে পারেন। ট্রাম্প যেহেতু মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, সুতরাং পরাজয় স্বীকার করে জনমনে স্বস্তি দিতে তিনি দেরি করবেন তা বলাই বাহুল্য। এ ছাড়া নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণাও এখনো অপেক্ষমাণ। চূড়ান্ত সেই দিনটির আগে রিপাবলিকানরা বাইডেনের জয়কে জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করার চরম প্রয়াস চালাবে, এমন আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

প্রেসিডেন্সি ত্যাগের আগ পর্যন্ত ট্রাম্প অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ড চালালে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, কর্তৃত্ববাদী আচরণের মধ্য দিয়েই ক্ষমতায় ট্রাম্পের উত্থান ঘটেছে এবং প্রেসিডেন্সিকালজুড়ে সেই আচরণ অব্যাহত ছিল। এমন চরিত্রের একজন মানুষের জন্য নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করার চেয়ে কারচুপির অভিযোগ করাটাই সহজ বলে মন্তব্য করেন নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক রুদ বেন গিয়াট। ট্রাম্পের মধ্যে ‘প্রতিশোধপরায়ণতা’ আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিদায়ী প্রেসিডেন্টের শেষ দিনগুলোর দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

বাল্টিমোরভিত্তিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জন গার্টনারের মতে, ট্রাম্প ‘মারাত্মক আত্মপ্রেমী’। আর তাই এমন একজন মানুষ পরাজয় মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সমর্থকদের কাছে নিজের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করবেন এবং সেটা তাঁর জন্য স্বাভাবিক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র : এএফপি, সিএনএন।

0000

আজকের জনপ্রিয়

0000