আদালতকে শাহিদুন নামক এক নারী বলছিলেন, তিনি কিছুদিনের জন্য সাকিবের সঙ্গে একত্রে ছিলেন মাত্র। বিয়ে করেননি। তবে এখন সন্তানদের নিয়ে আগের স্বামী বিল্লাল হোসেনের কাছেই থাকতে চান।

তিন সন্তানের জননী শাহিদুন আক্তারের স্বামী একজন কাতার প্রবাসী। কিন্তু শাহিদুন আক্তার স্বামীর অনুপস্থিতিতে দ্বিতীয় ব্যক্তির সঙ্গে ঘর বেঁধে ফেলেন। এদিকে কাতার থেকে স্বামী যখন ফিতে আসল, তখন সেই শাহিদুন আক্তার উলটো সুর নিলেন। তিনি এখন দাবি করছেন, তিনি আসলে ঐ পুরুষের সাথে ঘর বাধেননি বা বিয়ে করেননি। স্বামী না থাকায় তার সাথে একসঙ্গে থাকতেন মাত্র। গত সোমবার চাঁদপুরে বিচারিক হাকিম মো. হাসানুজ্জামানের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় এমন স্বীকারোক্তি প্রদান করেন চাঁদপুরের মতলব উত্তরের শাহিদুন আক্তার।

জানা গেছে, শাহিদুন আক্তারের (২৩) চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গালিম খাঁ এলাকার বৃদ্ধ শাহ আলমের বড় মেয়ে। তার সঙ্গে কুমিল্লার দাউদকান্দির নসিবদী গ্রামের বিল্লাল হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর ২০১৩ সালে বিল্লাল চলে যান কাতারে। বিয়ের সাত বছরে তাদের ৩ টি বাচ্চা হয়। গত বছরো বিল্লাল দেশে এসেছিলেন।

এদিকে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার চান্দেরচর গ্রামের মো. সাকিবের সঙ্গে মুঠোফোনে সম্পর্ক হয় শাহিদুন আক্তারের। এরপর তারা একে অপরের প্রেমে পড়ে যান।তারা এক সাথে পরকীয়া করতে থাকে। স্বামী বিল্লাল তার স্ত্রী এই প্রেমের কথা জানতেন না।

গত বছর বিল্লাল যখন কাতার থেকে দেশে ফেরেন, তখন তিনি তার স্ত্রী ও সন্তান্দের অনেক খোঁজ করেন। কিন্তু তারা সবাই লাপাত্তা হয়ে যায়। তিনি তার শ্বশুর বাড়িতেও খোজ নিয়েও তাদের খুজে না পেয়ে দাউদকান্দি থানায় একটি জিডি করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানদের তার শ্বশুর বাড়িতেই খুজে পান। এই ঘটনার পর তিনি মতলব উত্তর থানা পুলিশের সহায়তা চান।

এরপর গত সোমবার বিল্লালের অভিযোগের ভিত্তিতে শাহিদুন আক্তার ও তার প্রেমিক মো. সাকিবকে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ সময় বিচারিক হাকিম মো. হাসাদুজ্জামানের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন শাহিদুন আক্তার।

শাহিদুন আদালতকে বলেন, অন্যের সঙ্গে কিছুদিনের জন্য তিনি কেবল ঘর বেধেছেন। কিন্তু ফিরে যেতে চান আগের স্বামী বিল্লাল হোসেনের ঘরে। তবে আদালতে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন, কিছুদিন একসঙ্গে থাকলেও মো. সাকিবের সঙ্গে তার বিয়ে হয়নি।

এদিকে থানার ওসি আরো জানান, গৃহবধূ শাহিদুনকে তার নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে অন্যের স্ত্রী ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মো. সাকিবকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।