প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর নিজেদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও পর্নোগ্রাফি সাইটে আপলোড দেন যুবক। সে ঘটনায় পাঁচ বছর কারাদণ্ডের রায় দিয়েছিল আদালত। আবারো শুনানি চেয়ে আবেদন জানান তমলুকের ওই যুবক। অতিরিক্ত জেলা আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে সাজার রায় জারি রেখেছে।

ঘটনাটি ২০১৭ সালের। অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তমলুকের ওই তরুণীর। তরুণীর পরিবার অভিযোগ করেছিল যে, প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ওই যুবক প্রথমে ব্ল্যাকমেইল করেন, পরে বেশ কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও পর্নোগ্রাফি সাইটে আপলোড করে দেন। তার মধ্যে অন্যতম বড় পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইট পর্নোহাবে ওই সমস্ত ভিডিও আপলোড করা হয়।

সেখান থেকে ওই সমস্ত ভিডিও আরো বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়ে। ছয়মাস শুনানির পরই ভারতের আইটি বিভাগ ঘটনার সঠিক তথ্যপ্রমাণ তুলে দেয়। এই মামলায় সিআইডি’র স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর ছিলেন বিভাস চট্টোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, সব চেয়ে কম সময়ের মধ্যে এই মামলার রায় দান হয়। পাল্টা শুনানি চাওয়া হয়েছিল। গতকাল তার রায় বের হয়। উচ্চ আদালত সাজা বজায় রেখেছে। ৬৭এ ধারায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে যুবকের। পাশাপাশি ৯ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। পাশাপাশি ওই তরুণীকে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ।

২০১৬ সালেও একই ঘটনা ঘটেছিল। সাবেক প্রেমিকার ভিডিও পর্ন সাইটে আপলোড করে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ার। সাবেক প্রেমিকার ওপর প্রতিশোধ নিতেই তিনি ওই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন বলে জানিয়েছিল পুলিশ। অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলার তেড়াপল্লির বাসিন্দা ছিলেন ওই ঘটনার অভিযুক্ত।

ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ওই তরুণী তার সহপাঠী ছিলেন। সেখান থেকেই আলাপ ও প্রেম। কিছুদিন পর থেকেই যুবকের ব্যবহার আর পছন্দ হয়নি ওই তরুণীর। সম্পর্ক ভেঙে যায়। পরে অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয় একটি সফটওয়্যার কম্পানির কর্মচারি ওই তরুণীর।

সাবেক বান্ধবীর অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়া মেনে নিতে পারেননি ওই তরুণ। ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ইন্টারনেটের পর্ন সাইটে আপলোড করে দিয়েছিলেন। সেই ছবির একটি সিডি ওই তরুণীর হবু শ্বশুরবাড়িতে পোস্টে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। সব জানতে পেরে পুলিশের দ্বারস্থ হন পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার তরুণী। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পর্ন সাইট থেকে সব ভিডিও পুলিশ নিজেই মুছে দিয়েছিল।