বিয়ের প্রলোভনে এক কলেজ ছাত্রের ধর্ষণের শিকার হয়ে মাদরাসায় পড়ুয়া এক ছাত্রী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যায়! ঘটনা জানাজানি হলে বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত। পরে কয়েক দফায় সালিশে সিদ্ধান্ত হয় ওই কিশোরীকে ওই অভিযুক্তকেই বিয়ে করতে হবে। এরপর গত মঙ্গলবার রাতে গোপনে ওই বাল্যবিবাহটি সম্পন্ন করা হয়। এই ধরনের ঘটনা ঘটে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ওই ধর্ষক হচ্ছে উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের ঘোষপালা গ্রামের বাসিন্দা। সে একটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। তারই প্রতিবেশী মাদরাসা পড়ুয়া এক ছাত্রীকে (১৫) বিয়ের কথা বলে গত তিন মাস আগে শারীরিকভাবে সম্পর্ক তৈরি করে অভিযুক্ত। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু এই বিয়ে কোনো মতেই মানতে নারাজ অভিযুক্ত।

এই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টা করা হয়। এমন অবস্থায় ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু গ্রামের সালিশকারীরা ছাত্রীর পরিবারকে থানায় না গিয়ে মীমাংসার জন্য বলেন। একপর্যায়ে ঘটনাটি নিয়ে সালিশে বসলে অভিযুক্ত কোনো মতেই এই বিয়ে করবে না সাফ জানিয়ে দেয়। ফলে একরকম অনিশ্চিয়তায় পড়ে যায় ছাত্রীর পরিবার। কোনো উপায় না দেখে দ্বিতীয় দফায় সালিশে সিদ্ধান্ত হয় ওই ছাত্রীকে অভিযুক্তের বিয়ে করতে হবে। কিন্তু পূর্ণবয়স্ক না হওয়ায় দিন তারিখ নির্ধারণ করেননি সালিশকারী। এ অবস্থায় সালিশকারী ও দুই পরিবারের মধ্যে গোপন সমাঝোতার ভিক্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে অতি গোপনে বিয়ের কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে।

সালিশকারীদের একজন অবসর প্রাপ্ত মাদরাসা শিক্ষক মো. আনোয়ারুল হক আনু মাস্টার। তিনি সালিশের ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খুব শক্ত করে আইন সিদ্ধভাবেই গত মঙ্গলবার রাতে সাড়ে তিন লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ের কাজটি সম্পন্ন  করা হয়েছে। কোনো ধরনের ফাঁকফোকর ছিল না।
মেয়ের বিয়ের বয়স তো হয়নি। বিয়ের নিবন্ধন হলো কিভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মেয়েটি একটু ছোট সাইজের। বয়স একটু কম হইলেও বিয়ে হওয়ার মতো।’ মেয়ে তো অন্তঃসত্ত্বা এমন প্রশ্ন করলে তিনি হেসে বলেন, ‘এই রকম আমিও শুনছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই বিয়েটি করিয়েছেন সাব-কাজী মো. তসলিম উদ্দিন। তিনি বিয়ে নিবন্ধন করার কথা স্বীকার করে জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত জন্মনিবন্ধনে মেয়ের ১৮ ও ছেলের ২৩ বছর দেখেই সাড়ে তিন লাখ টাকা দোনমোহর দিয়ে বিয়ে নিবন্ধন করানো হয়েছে। আপনি তো কাজী না তাহলে বিয়ে পড়ালেন কিভাবে জানতে চাইলে তিনি জানান, কাজী নুরুল ইসলামের বই এনে তিনি এই বিয়ে নিবন্ধন করিয়েছেন।

এদিকে, চন্ডীপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক ভুইয়া জন্মনিবন্ধন দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাটি শোনেছেন। পরে তার কাছে লোকজন এলে তিনি জন্মনিবন্ধন দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কিন্তু কি করে কী হলো তার জানা নেই।