করোনাভাইরাস মহামারিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার মধ্যে সরকারি অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো স্কুল ও কলেজগুলোতে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির করার বিষয়ে সরকারি মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রী ও সচিবদের মতামত চেয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

অবশ্য এ উদ্যোগ সম্পর্কে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আকরাম-আল-হোসেন বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০২২ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন নিয়ে রূপরেখা তৈরি করেছে সরকার। সেখানে দুই দিন সাপ্তহিক ছুটি রাখা হলে কী কী সুবিধা পাওয়া যেতে পারে, সেসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। 

এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, নতুন কারিকুলাম করে ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ক্লাসের একটা হিসেবে রয়েছে। স্কুল যদি বছরে ১৮৫ দিন খোলা থাকে, তাহলে ক্লাসের জন্য কত ঘণ্টা পাওয়া যায়। আর সপ্তাহে দুই দিন বন্ধ রাখলে কত ঘণ্টা পাওয়া যাবে। এ রকম একটা হিসাব রূপরেখায় দেওয়া হয়েছে।

স্কুল-কলেজ সপ্তাহে দুই দিন বন্ধ রাখতে হবে এ রকম কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি জানিয়ে অধ্যাপক নারায়ন বলেন, কারিকুলাম বাস্তবায়নে রূপরেখা শিক্ষামন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও দুই মন্ত্রণালয়ের সচিবদের দিয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রী ও সচিবদের মতামত নিয়ে ওই রূপরেখা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সবার মতামত চাওয়া হবে।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, রূপরেখায় বলা হয়েছে দুইদিন বন্ধ থাকলে শিক্ষকরা বেশি প্রস্তুতি নিয়ে ক্লাসে আসতে পারবেন। ক্লাসের বাইরেও কিছু বিষয়ে মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন শিক্ষকরা। এসব বিষয় রূপরেখায় তুলে ধরা হয়েছে।

স্বাধীনতার পর দেশে সাপ্তাহিক ছুটি ছিল রোববার। এরশাদ আমলে সাপ্তাহিক ছুটি রোববারের পরিবর্তে প্রথমে শুক্র ও শনিবার করা হয়। পরে তা শুধু শুক্রবার করা হয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের (১৯৯৬-২০০১) সময়ে সাপ্তাহিক ছুটি পুনরায় দুদিন করা হয়। ২০১৩ সালে সাপ্তাহিক ছুটি কমিয়ে একদিন করার উদ্যোগ নেওয়ার হলেও তাতে সায় দেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফলে এখন সরকারি অফিসগুলো শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। অন্য দিনগুলোতে সরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলছে।

0000

আজকের জনপ্রিয়

0000