ছিনতাইকারী কেড়ে নিল এক অসহায় বৃদ্ধার টাকা। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার বিকালে মাগুরা শহরে। ঐ দিন সকালে রাবেয়া বেগম (৮৫) নামে এক বৃদ্ধা স্বামীর পেনশনের টাকা তুলে ব্যাংক থেকে বের হওয়ার সময় এক যুবক (ছিনতাইকারী) ঐ বৃদ্ধার সাথে গল্প করতে করতে এক পর্যায়ে টাকাগুলো নিয়ে চোখের পলকেই পালিয়ে যায়।

গত বুধবার সকালে প্রতিমাসের মত তিনি সোনালী ব্যাংক মাগুরা শাখায় একাই আসেন পেনশনের টাকা তুলতে। ব্যাংকের তিনতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় হঠাৎ করেই এক যুবক (ছিনতাইকারী) তার সামনে এসে দাঁড়ায়। সে তখন রাবেয়াকে বলে সরকার সকলকেই করোনা ভাতা দিচ্ছে। কিন্তু আপনাকে ভুল করে সরকার টাকা দেয়নি। এসব কথা বলার এক ফাঁকে সে তার কাছ থেকে উত্তোলিত ৬ হাজার ৪২৭ টাকা নিয়ে আসছি বলে পালিয়ে যায়। সেই যুবক তাকে বলে, তার নাম সোহাগ। এবং গ্রামের বাড়ি মাগুরার বারাশিয়া গ্রামে।

এরপর ঐ দিন বিকালে রাবেয়া ব্যাংকের প্রধান ফটকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার স্বামী মারা গেছেন দুই বছর আগে । পরিবারে চার ছেলে তিন মেয়ে। ছোট দুটি ছেলে যমজ ও প্রতিবন্ধী। বাকি ছেলে দুটি বলতে গেলে বেকার। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। এখন স্বামীর পেনশনের টাকাতেই চলে তাদের সংসার।

রাবেয়া কেঁদে কেঁদে বলেন, ঐ ছেলে আমাকে এখানে থাকতে বলেছিল। সে আমার টাকা নিয়ে চলে গেছে। কী করব এখন? সংসার চলবে কীভাবে?

অসহায় নিরুপায় বৃদ্ধা সোনালী ব্যাংকের সামনে দৌড়াদৌড়ি করছেন; আর কান্নাকাটি করছেন। ততক্ষণে ঐ লম্পট যুবক ভারি মোটরসাইকেল চেপে পালিয়ে গেছে অনেক দূরে। অথচ বৃদ্ধার ব্যাগে পুরনো একটি মোবাইল ফোন থাকলেও নেই অবশিষ্ট টাকা বাড়ি ফিরে যাওয়ার মতো। পরে এক জন এসে তার গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার মতো অল্প কয়েকটি টাকা হাতে ধরিয়ে দিতেই তিনি ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেন।

এ ব্যাপারে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা বলেন, এ বিষয়ে তাদের কিছুই করার নেই। কারণ ব্যাংকের সিসি টিভি ফুটেজ দেখে ছিনতাইকারীকে সনাক্ত করা সম্ভব নউ। কারণ, ব্যাংকের ৮টি সিসি ক্যামেরার কোনটাও কাজ করে না। সবগুলো দীর্ঘদিন নষ্ট হয়ে থাকলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।