অনেকেই শরীরে করোনার জীবাণু নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পরীক্ষা না করার দরুন তারা সেটা জানতে পারছেন না- এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত সব চিকিৎসাবিজ্ঞানীরাই। কিন্তু সেই সংখ্যাটা কত? স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বলছেন, সেটা জানা সংখ্যার চেয়ে ৫০ থেকে ৮৫ গুণ বেশি! গত শুক্রবার প্রকাশিত এ সম্পর্কিত একটি গবেষণাপত্রে দেখা যায়, সারা পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ১১ কোটি মানুষ!

যুক্তরাজ্যের দৈনিক গার্ডিয়ান এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই গবেষকদের বরাত দিয়ে সেখানে বলা হয়, এমন অসংখ্য করোনা আক্রান্ত রোগী আছেন, যাদের শরীরে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায়নি। তারা অসুস্থ হননি, সুতরাং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ারও প্রশ্ন আসে না। তাই তারা মূল গণনার সঙ্গে যুক্ত হননি।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান্তা ক্লারা নামক এলাকার ৩ হাজার তিনশত ৩০ ব্যক্তির অ্যান্টিবডির ওপর পরীক্ষা চালিয়ে তারা ওই গবেষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে।

একজন ব্যক্তি আক্রান্ত হওয়ার পরও কেন অসুস্থ হচ্ছে না?

এমন প্রশ্নের উত্তরে গবেষণায় বলা হয়, মানুষের শরীরে যখন বাইরে থেকে অচেনা কিছু প্রবেশ করে তখন তার এন্ডিবডি (রোগ প্রতিরোধ সেল) সেটা চিহ্নিত করে। যদি ক্ষতিকর কিছু হয় তাহলে নির্দিষ্ট ওই জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। যদি এন্টিবডি জেতে তাহলে মানুষ সুস্থ থাকে আর যদি সে হেরে যায় তাহলে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এজন্যই যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

সান্তা ক্লারার ওই বাসিন্দাদের শরীরের এন্ডিবডি পরীক্ষা করে এমন কিছুর প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকরা। অর্থাৎ কোনো না কোনো পর্যায়ে করোনাভাইরাস তাদের দেহে সংক্রমিত হয়েছিল, কিন্তু এন্টিবডির সঙ্গে লড়াইয়ে খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারেনি।