করোনাভাইরাসের কারণে সারাবিশ্বের মানুষের অভ্যাসে পরিবর্তন এ’সেছে। জীবাণুমুক্ত থাকার ব্যাপারে আগে সেভা’বে সচেতন যারা ছিলেন না, তারাও এখন অনেক’টাই চেষ্টা করে যাচ্ছেন নিজেরা নিরাপদ থাকার। 

কিন্তু নিরাপদ থাকার চেষ্টা কর’লেও অজান্তে ভাইরাসের দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কা তো আছেই। কারণ, বিভিন্ন কার’ণে আমাদের বাড়ির বাইরে বের হতে হচ্ছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত করোনা’মুক্ত না হলে এই ভাইরাস দ্বিতীয়বার তাণ্ডব চালা’তে পারে। আর দ্বিতীয়বার করোনাভাইরাস দ্রুত ও ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। করোনাভাইরাস পরের বার যদি শীত’কালে ছড়িয়ে যায়, তাহলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

সে কারণে অতি প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হলেও জীবা’ণু থেকে রক্ষা পাওয়ার কিছু উপায় বাতলে দিয়েছেন জীবাণু ও সংক্রমণ বিশেষজ্ঞরা। আসুন সেসব জেনে নেওয়া যাক-

১. জনপরিসরে বের হলে অব’শ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন। 

২. অন্যদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। এ ক্ষেত্রে কেউ বল’ছেন তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে, আবার কেউ বলছেন ছয় ফুটের কথা।

৩. কেনাকাটার মুহূর্তকে বিনোদনের উৎস হিসেবে নেবেন না। কেবল দরকা’রি জিনিস কিনে বাড়ি ফিরে যান।

৪. বাইরে বের হয়ে কো’নো স্থানের দরজা খোলা কিংবা কোথাও ধাক্কা দেওয়ার কাজে হাতে’র আঙুল ব্যবহার না করে হাঁটু কিংবা কাঁধ ব্যবহার করতে পারেন। কারণ, আঙুলে জীবা’ণু লাগলে তা পরিষ্কারের চেয়ে আপনার পোশাক ধুয়ে ফেলা বেশি সহজ।

৫. স্বয়ংক্রিয় অপশনের জন্য অপেক্ষা করুন। লিফটে ওঠার পর বোতাম চাপলেও দর’জা বন্ধ হয়, আবার না চেপে অপেক্ষা করলেও বন্ধ হয়। এ ক্ষেত্রে আপনি স্বয়ংক্রিয় অ’পশনের জন্য অপেক্ষা করতে পারেন।

৬. মোবাইল রাখার ব্যাপারে সচে’তন থাকুন। যেখানে সেখানে মোবাইল রাখবেন না। এভাবেও জীবাণু লেগে যা’ওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৭. পুনরায় ব্যবহারের ব্যাগ বাড়িতে আ’লাদা স্থানে রাখুন। পারলে সেটি ধুয়ে রাখুন। এমনকি ব্যাগটি ধরার পর বাই’রে বের হলে হাত ধুয়ে বের হন। ব্যাগ নিয়ে বাড়ি’তে ফিরলেও তা রেখেই হা’ত ধুয়ে নিন।

৮. খালি হাতে ব্যাগ থেকে জিনি’সপত্র বের করবেন না। এতে করে হাতে জীবাণু লেগে যে’তে পারে। 

৯. ঘর থেকে শুরু করে বাইরে বের হলেও সবকিছু স্পর্শ করা বন্ধ করতে হবে। হতে পারে সেটা দোকা’নের কোনো জিনিস কিংবা বসে থাকা চেয়ারের সামনের টেবিল। স্পর্শ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

১০. অনলাইনে কো’নো জিনিস অর্ডার দিলেও তা গ্রহণের সময় ডেলিভারি বয়ের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব ব’জায় রাখুন। নেওয়ার সময়ও স্পর্শ এড়িয়ে চলুন।

১১. বাড়িতে ঢুকেই প্রতিবার হাত ধুয়ে ফেলুন। আর এটি খুব সচেতনভাবে মেনে চলুন। ম’য়লা হাতে লাগেনি বলে অবহেলা করবেন না।

১২. নিজের গাড়ি এবং বাড়িতে জীবাণু নেই বলে বিষয়টি এ’ড়িয়ে যাবেন না। এগুলো জীবাণুমুক্ত রাখার চেষ্টা করুন।

১৩. বাইরে বের হলে টিস্যু, জীবাণুনাশক, হ্যান্ড সেনি’টাইজার রাখতে পারেন।

১৪. টাকা লেনদেন করার ব্যাপারে সচেতন থাকুন। টাকা’য় জীবাণু লেগে থাকে।

১৫, জ্যাকেট, জুতা ও প্যান্টে করোনাভাইরাস লেগে থাকতে পারে। এসব ধুয়ে ফেলা সম্ভব না হলে রোদে রাখুন। সম্ভব হলে এক’বার ব্যবহারের পর বেশ কয়েকদিন সেগুলো আর স্পর্শ করবেন না।

১৬. বিশেষ করে নাক, মুখ ও চো’খে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কখনো চোখে হাত দেওয়ার প্রয়োজন হলে আগে হাত পরিষ্কার করে নিন। এমনকি চোখ হাত দিলে সাথেসাথে তা পরিষ্কার করে ফেলুন।