করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের তালিকায় সবার উপরে যুক্তরাষ্ট্র। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, কানেকটিকাট, মিশিগান, ম্যাসাচুসেটসসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়ছেই। সুস্থ হয়ে ফের আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে সমানে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ১১০ জন সুস্থ হয়ে ফের আক্রান্ত হয়েছেন করোনাভাইরাসে।

গত দুই মাসে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমান আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে; তা ছাড়িয়ে গেছে ইতালি, স্পেন, জার্মানির অবস্থান। করোনায় প্রাণহানী ও আক্রান্তের পরিসংখ্যান রাখা আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, ৯ লাখ ৬০ হাজার ৬৫১ জন এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। মৃত্যুর সংখ্যা ৫৪ হাজার ২৫৬। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ১৬২ জন।

তবে নিউইয়র্কসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ১৫ হাজার ১১০ জন সুস্থ হয়ে ওঠা নাগরিক ফের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকদিনের মধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১০ লাখ পেরিয়ে যাবে। মৃত্যুর মিছিল থামাতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসকরা। তাদের ধরণা, মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়তে বাড়তে লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

এত মৃত্যু কেন, এমন ব্যাক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞ বলছেন, চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ার পরও মার্কিনিরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। তারা নিজেরে ইচ্ছেমতো ঘরে থেকে বাইরে গেছেন। সবার সঙ্গে মিশেছেন। এমনকি এখন লকডাউন তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থানে জড়ো হচ্ছেন। যে কারণে দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম দিকে বৈশ্বিক এই মহামারিকে গুরুত্ব দেননি বলেও অভিযোগ তাদের।

করোনায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত নিউইয়র্ক। সিটিসহ পুরো নিউইয়র্কে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৮২ হাজার ১৪৩ জন। মারা গেছেন অন্তত ২২ হাজার ৯ জন। এর পরেই রয়েছে নিউজার্সি। সেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫ হাজার ৪৯৮ জন। মারা গেছেন ৫ হাজার ৯১৪ জন।

অন্যদিকে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৫৩ হাজার ৩৪৮ জন। মারা গেছেন ২ হাজার ৭৩০ জন।