ব্লু হোয়েল নয়, গ্রাস এবার নতুন ভয়ংকর গেম ‘৪৮ আওয়ার্স চ্যালেঞ্জ’

6 second read
0
0
45

ফের নতুন মোড়কে বাজারে আমদানি হল অনলাইন ‘৪৮ আওয়ার্স চ্যালেঞ্জ’ গেমের৷ আর ব্লু-হোয়েলের পোশাক ছেড়ে নয়া গেম বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই টনক নড়েছে সিআইডির কর্তাদের৷ শুক্রবারই নিজেদের ফেসবুক এবং টুইটার অ্যাকাউন্টে অভিভাবকদের উদ্দেশে সতর্কতা জারি করেছেন রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দারা৷ গত কয়েকমাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দাপিয়েছে ব্লু-হোয়েল৷

তার দাপট কমতে না -কমতেই এই ৪৮-এর চ্যালেঞ্জ বন্ধ করাই এখন গোয়েন্দাদের কাছে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ জানা গিয়েছে, ফেসবুক ব্যবহার করে এই খেলা ছড়িয়ে দেওয়া হয় কিশোরদের মধ্য৷ সাধারণত ১৪ বছর বা তার আশেপাশের বয়সিদের মধ্যে এই গেম বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে দীর্ঘদিন ধরে৷

আমেরিকায় এই খেলা শুরু হলেও, বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের মাধ্যমে তার জাল ছড়িয়েছে ভারত-সহ বিভিন্ন দেশে৷ এমনকি এই শহরেও কিশোরদের মধ্যে এই খেলা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা৷ সাইবার আইন বিশেষজ্ঞ রাজর্ষী রায়চৌধুরী বলছেন, ‘ব্লু-হোয়েলের মতোই মূলত ডার্কওয়েবের মাধ্যমে এই খেলা চলে৷ আসলে ব্লু-হোয়েল অনেকটা বন্ধ হয়ে যেতেই বিকল্প হিসেবে এই খেলা বাজারে চালানোর একটা চেষ্টা শুরু হয়েছে৷

এর সঙ্গে বড়সড় আর্থিক বিষয়ও জড়িয়ে রয়েছে৷ তবে এখন থেকেই সকলের সাবধান হওয়া প্রয়োজন৷ কারণ এই খেলার পরিণতি কিশোরদের আত্মহত্যার দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে৷ ’ পুলিশ সূত্রের খবর, এর আগে ২০১৫ সাল থেকেই ২৪, ৪৮ বা ৭২ ঘণ্টার এই খেলা চালু ছিল৷ কিন্ত্ত এখন যে খেলাটি এসেছে, তা আরও বিপজ্জনক৷ কী বলা রয়েছে এই খেলায় ? জানা গিয়েছে , ৪৮ আওয়ার্স চ্যালেঞ্জ গেমে প্রথমে একটি লিঙ্ক পাঠানো হয়৷ সেখানে ক্লিক করে এই খেলা শুরু হয়৷ অ্যাডমিন কিশোরদের নির্দেশ পাঠায় , ৪৮ ঘণ্টার জন্য বাবা -মা কিংবা যাঁরা তাকে ভালোবাসেন, তাঁদের চোখের আড়ালে চলে যেতে হবে৷ অর্থাত্, পুরোপুরি অন্তর্ধানে , যাতে কেউ ওই সময়ের মধ্যে তার খোঁজ না পায়৷

আবার যে সময়ে কিশোর বা কিশোরীটি নিজেকে লুকিয়ে রাখবে , সেই সময়ে বাবা-মা বা তার কোনও বন্ধু যদি ফেসবুকের মতো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে নিরুদ্দেশ সংক্রান্ত কোনও পোস্ট দেয় , তা হলে খেলার ক্ষেত্রে পয়েন্ট একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে৷ এ ছাড়া বাড়ির কেউ এই খবরে অসুস্থ হয়ে পড়লেও বেড়ে যাবে পয়েন্ট৷ পুলিশ জানতে পেরেছে, শুধু একা নয় , অ্যাডমিনের নির্দেশে অনেক ক্ষেত্রে একসঙ্গে অনেক কিশোরের হঠাত্ করে গায়েব হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে৷ সিআইডির এক কর্তার বক্তব্য , ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১৪ বা তার আশপাশের কিশোরেরা নিখোঁজ হয়ে গেলে তা আমরা অপহরণের ঘটনা হিসেবেই ভেবে থাকি৷

কিন্ত্ত যারা নিখোঁজ হয়ে যায় , তারা এটাকে নিছকই খেলা হিসেবেই দেখে৷ ফলে তাদের খুঁজতেও দেরি হয়৷ যদিও আমরা এখনও পর্যন্ত এই ধরনের কোনও অভিযোগ পাইনি৷ কিন্ত্ত ফেসবুকের মাধ্যমে তা ছড়াতে কতক্ষণ ? তাই অভিভাবকদের আগাম সতর্ক করা হয়েছে৷ ’ শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিরণ্ময় সাহা বলেন, ‘এই বয়সটা চিন্তার৷ কারণ, এ সময়েই নানা অ্যাডভেঞ্চার করতে ইচ্ছে করে৷ দেখবেন, এই বয়সের শিশুদের মধ্যে হঠাত্ করে অপরাধপ্রবণতাও কাজ করে৷ তাই বাবা -মায়েরা একটু সতর্ক হলে আর চিন্তার কিছু থাকবে না৷

সুত্রঃএই সময়

মন্তব্য করুন

Comments are closed.