লেবাননে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভে বেশে কিছু ব্যাংক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনে এ ঘটনা ঘটে।

তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি বলছে, সম্প্রতি লেবাননে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং লেবাননের মুদ্রা লেবানিজ পাউন্ডের মান কমে যাওয়ায় এ বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত গ্রীষ্মের তুলনায় বর্তমানে লেবানিজ পাউন্ডের দাম কমে গেছে প্রায় ৫০ শতাংশ, যার প্রতিবাদে গত দুদিন ধরে রাস্তায় বিক্ষোভ করছেন হাজারো জনগণ।

এরই মধ্যে গতকাল রাতে ফুয়াজ আল সেমান নামের ছাব্বিশ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর পর জনগণ আরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ত্রিপোলিতে বড় ধরনের সহিংসতাপূর্ণ বিক্ষোভ হয়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ফুয়াজের দাফনের পর বিক্ষোভকারীরা মঙ্গলবার বিকেল থেকেই ব্যাংকগুলোতে আগুন দিতে থাকে এবং বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে।

ফুয়াজের বোন বলেন, ‘লেবানন সেনাবাহিনী তার ভাইকে গুলি করেছে।’ তবে দেশটির সেনাবাহিনী সরাসরি এর দায় না নিয়ে এ জন্য ‘অনুশোচনা’ করেছে। তারা জানিয়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ সিডনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি শাখায় অর্ধডজনের মতো পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়। বৈরুত ও দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বাতিহেও ব্যাংকগুলোতে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনী বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে।

উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলেও মার্চে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। এবার করোনাভাইরাসের লকডাউন ভেঙেই সেই বিক্ষোভ নতুন করে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।

রাস্তায় নেমে এসেছে শিশু-কিশোর, নারীসহ হাজারো মানুষ। তাদের অনেকের হাতেই পাথর ও ককটেল বোমা।