করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আমরা সবাই এখন ঘরেই থাকছি। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ও খাদ্যসামগ্রী কিনতে বাজারে যেতে হচ্ছে কমবেশি সবারই। তাই বাজার করা থেকে শুরু করে খাবার সংরক্ষণ, প্রস্তুত ও পরিবেশনের প্রতিটি ধাপেই করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে নিতে হবে বাড়তি সতর্কতা। এ জন্য কিছু করণীয় হলো :

বাজারে যাওয়ার আগে
♦ বাজারে যেহেতু জনসমাগম বেশি তাই বারবার বাজারে না গিয়ে লিস্ট তৈরি করে সপ্তাহে এক দিন বা দুই সপ্তাহে এক দিন গিয়ে প্রয়োজনীয় খাবার ও দ্রব্যাদি কিনে আনুন।
♦ বাজারে গেলে মাস্ক, ডিসপোজেবল গ্লাভস, সম্ভব হলে চশমা ও ছেলেরা টুপি পরে এবং নারীরা মাথায় ওড়না বা স্কার্ফ ব্যবহার করতে পারেন।
♦ কেনাকাটা করার সময় দোকানদার বা অন্য ক্রেতাদের থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব (কমপক্ষে তিন ফুট) বজায় রাখার চেষ্টা করুন।
♦ হাত দিয়ে স্পর্শ করা হয় এমন স্থান যেমন : রেলিং, দরজা, বাজারের ব্যাগ, ট্রলি, বাস্কেট, পণ্য, টাকা যতটা সম্ভব কম স্পর্শ করবেন। সম্ভব হলে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন করুন।

বাসায় ফিরে যা করবেন
♦ কেনাকাটা শেষে বাসায় ফিরে জুতাগুলো অবশ্যই দরজার বাইরে রাখুন। ভেতরে ঢুকেই বাজারের ব্যাগ বা প্যাকেটগুলো অন্য কাউকে ধরতে দেবেন না।
♦ বাসায় ফিরে গ্লাভসগুলো ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনে ফেলে সাবান দিয়ে ভালো করে ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত হাত ধুয়ে নিন। পরনের কাপড় সাবান পানিতে ডুবিয়ে দিন এবং সম্ভব হলে গোসল করে নিন।
♦ বাজার থেকে এসে মানিব্যাগ, ঘড়ি, চশমা, মোবাইল জীবাণুনাশক বা অ্যালকোহলযুক্ত স্যানিটাইজার দিয়ে মুছে নিন।
♦ সম্ভব হলে আরেক জোড়া নতুন গ্লাভস পরে পাউরুটি, বিস্কুট, আটার প্যাকেট, দুধের প্যাকেট, তেলের বোতল ইত্যাদি বা বোতলজাত পণ্যগুলো জীবাণুনাশক দিয়ে মুছে নিন। অন্য পরিষ্কার কনটেইনারে ঢেলে প্যাকেটগুলো ফেলেও দিতে পারেন।
♦ ডাল, লবণ, চিনি, গুঁড়া মসলা ইত্যাদি প্যাকেট থেকে বের করে পরিষ্কার কনটেইনার বা বয়ামে ঢেলে সংরক্ষণ করুন এবং প্যাকেটগুলো ফেলে দিন।
♦ অনেকেই বাজারের ব্যাগ জমিয়ে রাখেন; কিন্তু এখন তা করবেন না।
♦ সহজেই সংরক্ষণ করা যায় এমন শুকনা খাবার যেমন : আলু, তেল, চালের বস্তা, পেঁয়াজ, আদা, রসুন ইত্যাদি স্টোর রুম, বারান্দা বা ঘরের নির্দিষ্ট পরিষ্কার জায়গায় রেখে দিতে পারেন তিন-চার দিন। অন্য খাদ্যসামগ্রীর ব্যাগ বাসায় ঢোকানোর আগে দরজার বাইরে ডাস্টবিনে ফেলে দিন।

ফ্রিজে সংরক্ষণ করার আগে
♦ কাঁচা শাকসবজি ও ফলমূল আলাদা পানিপূর্ণ পাত্রে ডুবিয়ে রাখুন। এরপর ঠাণ্ডা পানির প্রবাহে (ত্ঁহহরহম ধিঃবত্) ভালো করে কচলে ধুয়ে নিন। এবার ভালো করে মুছে বা শুকিয়ে ফ্রিজের নির্দিষ্ট জায়গায় সংরক্ষণ করুন।
♦ কাঁচা মাছ, মাংস আলাদা স্থানে ভালোমতো ধুয়ে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।
♦ ডিম ভালোমতো ধুয়ে সংরক্ষণ করুন।

ফলমূল ও শাকসবজি
♦ ফলমূল ও শাকসবজি ট্যাপ বা কলের পানির প্রবাহে ভালোমতো ধুয়ে নিন।
♦ অনেকে ফলমূল ও শাকসবজি ধুতে ডিটারজেন্ট বা সাবান ব্যবহার করেন, যা মোটেও ঠিক নয়। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যহানি হতে পারে।
♦ সন্দেহ থাকলে পানিতে ভিনেগার মিশিয়ে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখতে পারেন। পানি ও ভিনেগার মিশিয়ে ফল ডুবিয়ে রাখলে ৯৮ শতাংশ ব্যাকটেরিয়া, কিছু ভাইরাস ও কীটনাশক চলে যায়। তবে ভিনেগার রেজিস্টার্ড ডিসইনফেক্টেন্ট নয় এবং এতে করোনাভাইরাস যাবে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।

রান্নার আগে ও পরে সতর্কতা
♦ ভালোমতো শাকসবজি ধুয়ে এবং ভালোভাবে রান্না করলে রান্নার তাপমাত্রায় করোনাভাইরাস মারা যাবে।
♦ মাছ, মাংস যেন ভালোমতো সিদ্ধ হয় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিন।
♦ ডিম ভালোভাবে সিদ্ধ করতে হবে। কাঁচা বা অর্ধসিদ্ধ অবশ্যই নয়।
♦ রান্নার আগে এবং খাবার পরিবেশনের আগে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।
♦ যিনি খাদ্য প্রস্তুত করবেন তাঁর হাতের নখ ছোট করে রাখবেন। কারণ বড় নখের ভেতর অনেক সময় সাবান প্রবেশ করে না। ফলে নখের ভেতর ভাইরাস থেকে যেতে পারে।
♦ রান্নার ও কাটার কাজে ব্যবহূত ছুরি, বঁটি, কাটার বোর্ড, হাঁড়ি, পাতিল ভালো করে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত রাখুন। রান্না শেষে রান্নাঘরের মেঝে, কাটার স্থান, কেবিনেট ইত্যাদি সাবান পানি বা সম্ভব হলে ব্লিচিং পানি দিয়ে মুছে ফেলুন।

যা করবেন না
♦ এই সময় বাইরের বা রেস্তোরাঁর খাবার এড়িয়ে বাসার খাবার খান। কেননা বাইরের খাবার যিনি প্রস্তুত করছেন তিনি সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন কি না, তা জানা সম্ভব নয়। তাই ঘরে তৈরি ফ্রেশ খাবার খাওয়াই এখন শ্রেয়।
♦ অসুস্থ ব্যক্তির দ্বারা খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন করবেন না।