বোরখা নারীনির্যাতনের একটি প্রতীক। কিন্তু একদা সেক্যুলার বাংলাদেশের ভয়াবহ বাস্তবতা এই যে অধিকাংশ মেয়ে মগজধোলাই হয়ে হোক, পারিবারিক চাপে হোক, সামাজিক চাপে হোক হিজাব বা বোরখা পরে। এখন কী করা উচিত মেয়েদের? গৃহবধু হয়ে যাও, স্বামী সন্তানের সেবা করো আর পরকালে জান্নাতবাসী হওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে মাথা ঠুকতে থাকো? জান্নাতে বসে অসংখ্য হুরের সঙ্গে স্বামীর দিবারাত্তির সঙ্গম দেখতে দেখতে নিজের বুড়ো আঙ্গুল চুষতে হবে অনন্তকাল।

না, ওইপারে মেয়েদের জন্য কোনও লোভনীয় জীবন অপেক্ষা করে নেই। ইহজগতই তাদের ভরসা। খাঁচা থেকে মেয়েদের বেরিয়ে আসতে হবে। হিজাব বোরখা পরো বা না পরো, শেকল ছিঁড়তে হবে পায়ের। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হবে , স্বাবলম্বী হতে হবে, স্বাধীনতা উপভোগ করতে হবে, অধিকার ছিনিয়ে নিতে হবে। এই না করলে মেয়েদের ওকূল তো গেছে, একূলও যাবে।

আমাদের বাড়ি ছিল সেক্যুলার বাড়ি। শিল্প সাহিত্যের বাড়ি। সেই বাড়ি এখন কট্টর মুসলমানের বাড়ি। হাদিস কোরানের বাড়ি। আমার বড় মামা পাঁড় নাস্তিক তো ছিলেনই, নামী কমিউনিস্ট ছিলেন। তাঁর ছেলেমেয়েরা সবাই ধার্মিক। কেউ কেউ তো পাঁচ বেলা নামাজ পড়ে, বোরখা পরে। কেউ হজ্বে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে। আমার এক মামা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ধর্ম কর্মের ধার ধারতেন না। তাঁর সবকটা কন্যা শুধু বোরখা নয়, নিকাব, হাতমোজা, পা-মোজা সবই পরে। আমার বাকি মামারাও বদলে গেছে আমূল।

যাদের সঙ্গে শৈশব কেটেছে, তারা আমার নাম উচ্চারণ করাও মনে করে পাপ। আমার কোনও সন্তান নেই। কিন্তু পরিবারে নতুন জেনারেশন বেশ আছে। আমার বড় দাদার দুই ছেলে। ছোট দাদার এক ছেলে এক মেয়ে। আর আমার বোনের এক মেয়ে। এরা কেউ কি আমার লেখা পড়ে? জানে আমি কী লিখি? না। জানার একফোঁটা আগ্রহ নেই কারো। আমার লেখা আমার বাবা মা, আমার দাদারা পড়তো। কেউ নেই এখন। বোন পড়ে লেখা। তাছাড়া আত্মীয়স্বজনের বাইরের মানুষই পড়ে। তাদের অনেকে আমাকে জানে, বোঝে। তারাই আমার আপন।

0000

আজকের জনপ্রিয়

0000