শুধু শ্বাসযন্ত্র বা ফুসফুসেই নয়, করোনাভাইরাস মানবদেহে পুরো রক্ত সংবহন তন্ত্রে আক্রমণ করে। এর ফলে, মানবদেহে একাধিক অঙ্গ অকার্যকর হয়ে পড়ে। গত শুক্রবার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

গবেষণা প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত তিনজন রোগীর ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, তাদের পুরো রক্ত সংবহন তন্ত্র ‘ভাইরাসে পরিপূর্ণ’ ছিল এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শরীরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ তাদের কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছিল।

গবেষণার নেতৃত্বে থাকা জুরিখ ইউনিভার্সিটি হসপিটালের অধ্যাপক ফ্রাঙ্ক রুশিৎজকা বলেন, ‘কেবল ফুসফুসেই নয়, ভাইরাসটি ধমনী, শিরা, উপশিরা সবখানেই আক্রমণ করে। গবেষকরা দেখেছেন, করোনার আক্রমণের ফলাফল নিউমোনিয়ার চেয়ে অনেক বেশি মারাত্মক এবং ভয়াবহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনাভাইরাস এন্ডোথেলিয়ামে (কোষের স্তর) প্রবেশ করে, যা রক্তনালীর প্রতিরক্ষা রেখা। এভাবেই এটি আমাদের শারীরিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয় এবং মাইক্রোসার্কুলেশনে সমস্যার সৃষ্টি করে।

এরপর এটি দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্ত সরবরাহ কমিয়ে দিতে থাকে। একপর্যায়ে রক্ত সঞ্চালন পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এ কারণেই আমরা দেখি যে, করোনা আক্রান্ত রোগীদের হৃদপিণ্ড, যকৃত ও অন্ত্রসহ প্রায় সব অঙ্গেরই সমস্যা দেখা দেয়।’

এ ছাড়াও অধ্যাপক ফ্রাঙ্ক রুশিৎজকা জানান, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও কার্ডিওভাসকুলার রোগে ভুগতে থাকা ব্যক্তিরাও দুর্ভাগ্যক্রমে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আছেন। পাশাপাশি যারা ধূমপায়ী এবং যাদের এন্ডোথেলিয়াল ফাংশনের পূর্ব দুর্বলতা রয়েছে অথবা রক্তনালী অপুষ্ট, তারা করোনার কাছে সবচেয়ে সহজ শিকার।