করোনাভাইরা’সের কারণে নজিরবিহীন বিপাকে পড়েছে যৌনকর্মীরা। সচ’রাচর যৌনকর্মীরা দিনে বহু খদ্দেরের সংস্পর্শে যায়। কিন্তু করোনাভাইরা’সের তাণ্ডবের মধ্যে তারা নিজেদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে গে’লে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাঁচি-কাশি দেও’য়ার পর হাত সাবান দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে। এমন’কি নিজের হাত নাকে-মুখে ও চোখে দেওয়া যাবে না। অন্য মানুষের কাছ থে’কে শারীরিকভাবে দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হচ্ছে। এ’ই দূরত্ব কেউ বলছেন তিনি ফুট, আবার কোনো বিশেষজ্ঞ বলছেন ছয় ফুটের কথা।

কিন্তু অন্যদের থে’কে দূরত্ব বজায় রেখে নিজেদের পেশা চালিয়ে যাওয়া যৌনক’র্মীদের পক্ষে অন্তত অসম্ভব। সে কারণে, বর্তমানে তারা খেয়ে পরে মাথা গোঁজার জা’য়গা করে নিতেই হি’মশিম খাচ্ছে।

ইউরোপের বিভিন্ন দে’শে এখ’ন যৌনকর্মীদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। হিউম্যান রা’ইটস ওয়াচ বলছে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পতিতাবৃত্তি শাস্তিযোগ্য অ’পরাধ। 

ইন্টারন্যঅশনাল কমি’টি অন দ্য রাইটস অব সেক্স ওয়ার্কার্স ইন ইউ’রোপ (আইসিআরএসডাব্লিউই) জানিয়েছে, ইউরোপের দেশগুলোতে যৌনকর্মীরা সবসময়ই অথনৈতিকভাবে টা’নাপড়েনের মধ্যে থাকে। তাদের কাছে টাকা-পয়সা সেভাবে সঞ্চিত থাকে না। কোনো ধরনের বিপদে পড়লে তারা তা থেকে উদ্ধার হতে হিমশিম খায়।  এই মহামা’রিতে নিজেরা টিকে থাকার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

ইউরোপের দেশগুলোতে যৌ’নকর্মীদের বিভিন্ন ডেরায় অভিযান, তাদেরকে আটক এবং শা’স্তির বিষয়ে আইসিআরএসডাব্লিউই জানিয়েছে, এসব না করে যৌনকর্মীদের অর্থনৈতিক প্রণোদনা দরকার। এই সময়ে তাদের নিরাপদ রাখতে চাইলে জ’রুরি ভিত্তিতে সহায়তা করা দরকার।

আইসিআরএসডাব্লিউই আরো দাবি জানিয়েছে, যৌনকর্মীদের মানবা’ধিকার যেন ক্ষুণ্ন না হয় সেটি সব দেশের সরকারকে বিবেচনায় রাখতে হবে। তাদের নিরাপত্তা দিতে হবে এবং তাদের কা’জের পরিবেশ নিরাপদ করার ক্ষেত্রে সেভাবে নিয়ম চালু করতে হবে। যৌনকর্মীদের অপরাধীর তা’লিকাভুক্ত করা হলে তার বিরূপ প্রভাব পড়বে বলেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

সূত্র : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ