গাইবান্ধার ফুলছড়িতে গৃহবধূকে ধর্ষণ করতে গিয়ে গোপনাঙ্গ (পুরুষাঙ্গ) হারিয়েছেন পাঁচ সন্তানের জনক রুহুল আমিন। গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত দক্ষিণ সন্যাসীর চর গ্রামে এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আহত অবস্থায় বৃহস্পতিবার রুহুল আমিনকে (৪৫) গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিজের সম্ভ্রম বাঁচাতে এ কাজ করেছেন বলে জানান ওই গৃহবধূ।

গৃহবধূর পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চরাচঞ্চলের ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ সন্যাসীর চর গ্রামের এক জেলের স্ত্রীর সাথে প্রতিবেশি আওলাদ হোসেনের ছেলে রুহুল আমিন দীর্ঘ দিন ধরে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বুধবার রাতে ওই জেলে নদীতে মাছ ধরতে গেলে এই সুযোগে লম্পট রুহুল আমিন বাড়িতে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় গৃহবধূ তার সম্ভ্রম বাঁচাতে ধারালো ব্লেড দিয়ে রুহুল আমিনের গোপনাঙ্গ (পুরুষাঙ্গ) কেটে দেন। ঘটনার পর রুহুল আমিন দৌড়ে পালিয়ে যান। বৃহস্পতিবার সকালে রুহুল আমিনের পরিবারের লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গাইবান্ধা হাসপাতালে ভর্তি করে।

গাইবান্ধা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ জানান, কাটা গোপনাঙ্গ নিয়ে নিয়ে রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ওই গৃহবধূ বলেন, লম্পট রুহুল আমিন আমাকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছেন। নিজের নিরাপত্তা চেয়ে এরআগে গাইবান্ধা কোর্টে একটি জিডিও করেছি। এরপরেও তিনি আমাকে উত্যক্ত করে আসছিলে। বুধবার রাতে আমার স্বামী নদীতে মাছ ধরতে গেলে এই সুযোগে রুহুল আমিন ঘুমন্ত অবস্থায় আমাকে ধর্ষণ চেষ্টা করলে নিজের সম্ভ্রম বাঁচাতে বাধ্য হয়ে এই কাজ করছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুল কাদের জানান, রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে এর আগেও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছিল। পরে বিষয়টি স্থানীয় মাতব্বররা মিমাংসা করে দিয়েছেন। বুধবার রাতের ঘটনার কথা জানতে পেরে ওই বাড়িতে গেলে মেঝেতে রক্ত দেখতে পাই এবং ওই  গৃহবধূকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। এ বিষয়ে তাকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।

ফুলছড়ি থানার ওসি কাওছার আলী জানান, এ ব্যাপারে তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।