সারাদিন বাড়িতে থাকার কারণে মুখরোচক এটা-সেটা খেতে মন চাইতেই পারে। সেসব খাবারে পুষ্টি খুব একটা না থাকলেও আপনার জন্য গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাকে ডেকে আনে খুব দ্রুত। এদিকে বাইরে যাওয়া হচ্ছে না বলে আলু-ডিম-ডাল দিয়েই চালিয়ে দিচ্ছেন অনেকে। দিনের পর দিন একই রকমের খাবার খেলে কিন্তু হজমের সমস্যা বাড়বে। আবার শুয়ে-বসে গা-হাত-পায়ে ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ব্যথার ওষুধ খেয়ে নেন। ব্যথার ওষুধ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

ডিপ ফ্রাই অর্থাৎ ডুবো তেলে ভাজা খাবার খেলে হজমের সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। আবার বাড়িতে থাকলে ঘন ঘন চা-কফি পান করতে ইচ্ছে করে। এসব কারণেও হজমের সমস্যা হয়। যারা চিনি দেয়া চা পান করেন, তাদের বাড়তি ক্যালোরি শরীরে যায়। অনেকে আবার অ্যাসিডিটি কমাতে কোলা জাতীয় পানীয় খেতে পছন্দ করেন। এর ফলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়ে।

করোনাভাইরাস ঠেকাতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো দরকার। এই পরিস্থিতিতে অ্যাসিডিটি কিংবা হজম ক্ষমতার উপর চাপ ফেলা মোটেও কাজের কথা নয়। প্রতিদিনের রুটিনে একটু পরিবর্তন এনেই এটি রুখে দেয়া যায়। কীভাবে? জেনে নিন-

সকালে ঘুম থেকে উঠে সম্ভব হলে ছাদে গিয়ে মিনিট দশেক পায়চারি করে আসুন। নয়তো বারান্দায় বা বাড়ির মধ্যে হাঁটুন।

চা পানের আগে গরম পানিতে লেবু আর সামান্য আদার রস মিশিয়ে খান। এই দুটিই ইমিউনিটি বুস্টার, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এটি অত্যন্ত উপযোগী।

চায়ে চিনি বা সুগার ফ্রি নয়, বরং মধু মিশিয়ে খান।

বাড়ির টুকটাক কাজ করতে পারলে এক দিকে মেদ জমার ঝুঁকি কমে, অন্য দিকে হজম শক্তি ভালো হয়।

সকালের খাবারের আগে শরীরচর্চা করে নিলে ভালো হয়। অ্যাসিডিটি কমাতে ও হজমশক্তি বাড়াতে পবনমুক্ত আসন, বজ্রাসন সাহায্য করে।

একটানা বসে থাকলে মেদ জমার পাশাপাশি হজম করার সমস্যাও হয়। তাই কিছু ক্ষণ পরপর হাঁটাচলা করে আসুন। বাড়িতে শিশু থাকলে তাদের সঙ্গে খেলুন, শরীর-মন দুইই ভালো থাকবে।

অতিরিক্ত লবণ খেলে আর খাবারে ফাইবারযুক্ত খাবার না থাকলেও অ্যাসিডিটির প্রবণতা বাড়ে। বাড়তি লবণ খাবেন না।

ধুমপায়ীদের হাইপার অ্যাসিডিটির সম্ভাবনা খুব বেশি। ধূমপান ছেড়ে দিন অবিলম্বে।

মদ্যপান করলেও অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়ে, এই সুযোগে নেশা ছেড়ে দেয়ার চেষ্টা করুন।

ভাজা খাবার খেতে ভালো লাগলেও শরীরের জন্যে মোটেও ভালো নয়। চেষ্টা করুন ভাজার বদলে সেঁকা পাঁপড়, বাদাম, নন স্টিক প্যানে তেল ছাড়া শুকনো ভাজা চিড়া খেতে।

শসা, ভেজানো ছোলা ও পেঁয়াজ, বিট লবণ, লেবুর রস দিয়ে চানা বানিয়ে খেতে পারেন। অত্যন্ত মুখরোচক অথচ পুষ্টিকর।

বারবার খেতে ইচ্ছা করলে নানা রকম বাদাম মিশিয়ে খেতে পারেন। একদিকে এর পুষ্টিমূল্য অনেক বেশি অন্যদিকে বেশ অনেক ক্ষণ পেট ভর্তি থাকবে।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন। বাইরে না বের হলে পানি তৃষ্ণা কম পায়, কিন্তু সারা দিনে ১০-১২ গ্লাস পানি পান করুন।

খাওয়ার পর কিছু ক্ষণ বারান্দায় পায়চারি করুন। নিজেদের মধ্যে গল্প করুন। খাওয়ার ঘণ্টা খানেক পর ঘুমাতে গেলে ভালো হয়।