বিশ্বব্যাপী সর্বত্রই এখন করোনাভাইরাস আতঙ্ক। এই ভাইরাসের কাছে যেন অসহায় হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস থেকে বেঁচে থাকতে বিভিন্ন রকম পদক্ষেপ নিচ্ছে বিশ্ববাসী।

করোনাভাইরাস যাতে শরীরে বাসা বাঁধতে না পারে সেজন্য অনেকেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্কের পাশাপাশি গ্লাভসও ব্যবহার করছেন। বিশেষত দোকান, বাজার করার ক্ষেত্রে গ্লাভসের মাধ্যমেই ভাইরাস সংক্রমণ রোখা সম্ভব হবে বলে ভাবছেন অনেকেই।

কিন্তু জানেন কী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্লাভস ঠিকমতো ব্যবহার না করলে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই গ্লাভস ব্যবহারের আগে এই জরুরি তথ্যগুলো অবশ্যই জেনে রাখা প্রয়োজন।

বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী দিয়ে তৈরি হয় গ্লাভস। প্রস্তুতকারী ওই সব সামগ্রীর জেরেই হাতের তুলনায় গ্লাভসের উপরেই ভাইরাস বেশিদিন বাঁচে।

তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিক্ষণ ওই গ্লাভস পরে থাকাকালীন যে সামগ্রীতে আপনি হাত দিচ্ছেন, তাতেই ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাস। তাই সেক্ষেত্রে বলা চলে খালি হাত অনেকাংশে নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞদের আরও দাবি, গ্লাভস অনেক সময়ে আমাদের পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পরিবর্তে অসচেতন করে তোলে বেশি। যেমন, অনেক সময়ই আমরা গ্লাভস খোলার পর সেই হাতেই বিভিন্ন জিনিসে হাত দিয়ে থাকি। তার ফলে অনেক সময় হাত থেকে জীবাণু প্রায় গোটা শরীরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় সিংহভাগ। তাই গ্লাভস খুলে অবশ্যই হাত ধোয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া বিশেষজ্ঞদের দাবি, গ্লাভস খোলার ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মানা জরুরি। নইলে শরীর সুস্থ থাকার বদলে খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে কয়েকগুণ।

তাদের বক্তব্য, অনেকেই নাকি জানেন না স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্লাভস খোলার পদ্ধতি। কিন্তু কী সেই পদ্ধতি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাত্র দু’টি আঙুলের সাহায্যে হাতের কবজির সামনে থাকা অংশ টেনে গ্লাভস খোলা উচিত। তারপর তা সঠিক জায়গায় ফেলে দিতে হবে কিংবা ধুয়ে নিতে হবে।

আর শুধু গ্লাভস পরিষ্কার রাখলেই হবে না। প্রয়োজন হাত পরিষ্কারেরও। গ্লাভস খোলার পর সাবান কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে হাত। তবেই মিলবে জীবাণুদের থেকে রেহাই। না হলে বিপদ আরও বাড়বে।