বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার বেড়েই চলেছে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬১ জেলায় ইতোমধ্যে হানা দিয়েছে অতি সংক্রামক এই ভাইরাস। রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আগামী সপ্তাহ থেকে সংক্রমণ বিস্তারের গতি ঝড়ে রূপ নিতে পারে। আর তাতে মে মাসের মধ্যেই দেশে নভেল করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে পৌঁছাতে পারে এক লাখে।

যদি লকডাউনসহ পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়,তাহলেও আক্রান্ত হতে পারে কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষ। আর প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে দেশে ৮০০ থেকে ১ হাজারের মতো মানুষ মারা যেতে পারেন।

খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের ওই বৈঠকে একাধিক মন্ত্রী ও সচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিতি ছিলেন। বৈঠকের কার্যবিবরণীতে এই আশঙ্কার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে স্বাস্থ্য মন্ত্রীসহ কর্তা ব্যক্তিরা যতই পরিস্থিতি নিয়ে তুষ্টির ঢেঁকুর তুলেন না কেন বাস্তব পরিস্থিতি মোটেও সেরকম নয়। অবশ্য সামনের দিনগুলো যে অনেক চ্যালেঞ্জিং ও কঠিন সে আভাস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে দিয়েছেন। আর এই সম্ভাব্য সঙ্কট এড়াতে দেশের মানুষকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে কতটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে ওই পরিস্থিতি সে সম্পর্কে দায়িত্বশীল কোন পর্যায় থেকে ধারণা দেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই বৈঠক সূত্রে মোটামুটি ধারণা পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় আন্তঃমন্ত্রণালয় এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ সম্ভাব্য সংক্রমণ ও মৃত্যু সম্পর্কে কিছু ধারণা দেন। বৈঠকে তিনি একটি সাধারণ মডেল ও অপর একটি রক্ষণশীল মডেলের তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞরা দু’টি প্রক্ষেপণ করেছেন। প্রথম প্রক্ষেপণ অনুযায়ী,৩১ মে পর্যন্ত দেশে ৪৮ হাজার থেকে ৫০ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন। আর এ সময়ের মধ্যে করোনায় মৃত্যু হতে পারে ৮০০ থেকে ১০০০ মানুষের। আর দ্বিতীয় প্রক্ষেপণ অনুসারে আক্রান্তের সংখ্যা হতে পারে প্রায় এক লাখ মানুষ।

সভায় তিনি জানান, এই খারাপ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে আমাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। এই সব প্রক্ষেপণে অনেকগুলো ফ্যাক্টর বিবেচনা ও ব্যবহার করা হয়েছে (যেমন-লকডাউন, জনসচেতনতা, সামাজিক দূরত্ব ইত্যাদি এবং এগুলোর বর্তমান পর্যায়)।

প্রক্ষেপণ দুটি বিবেচনায় রেখেই করোনা নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসার প্রস্তুতি গৃহীত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজি আরো জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসারে আক্রান্তদের মধ্যে ২০ শতাংশ রোগীর হাসপাতাল সেবা প্রয়োজন।

ওই সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব, পুলিশের আইজি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, ডিজিএফআই ডিজি ও এনএসআই ডিজিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। এখন দেশে করোনাভাইরাসে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৫ হাজার ৯১৩ জনে। আরা মোট মারা গেছেন ১৫২জন।