ব্রেনে টিউমার নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে লড়াই করেছেন বলিউডের গুণী অভিনেতা ইরফান খান। সুস্থ হয়ে ‘আংরেজি মিডিয়াম’ সিনেমার মধ্যে দিয়ে কামব্যাকও করেছিলেন। কিন্তু জীবন রক্ষার লড়াইয়ে তিনি হেরে গেলেন। বুধবার সকালে তিনি মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধিরুবাই আম্বানি হাসপাতালে মারা যান।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরফান খান বেশ কয়েকবার টুইট করেছেন। তার অগুনতি ভক্তকে জানিয়েছিলেন ধন্যবাদ। সেগুলোই প্রকাশ করা হলো এখানে-

কিছুদিন আগে তার নোটে একবার লিখেছেন-

‘গত কয়েকমাসে এক অন্য সফর সেরে ফিরলাম। সুস্থ হওয়ার পাশাপাশি লড়াই চালাতে হয়েছে অসীম ক্লান্তির সঙ্গে… নিজেকে তৈরি করতে হয়েছে রিল এবং রিয়াল দুনিয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্যে।আমি জানি আপনারা সবাই উত্‍সুক আমার সঙ্গে কথা বলার জন্যে, আমার এই লড়াইয়ের গল্প শোনার জন্যে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমি ধীরে চলছি। চেষ্টা করছি আসতে আসতে কাজের জগতের সঙ্গে আরও একবার মানিয়ে নিতে। আপনাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও প্রার্থনার জন্যে আমি কৃতজ্ঞ। আপনারা যেভাবে আমাকে সময় এবং স্পেস দিয়েছেন এই কঠিন সময়ে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। এই ধৈর্য এবং ভালোবাসা দেখানোর জন্যে অনেক অনেক ধন্যবাদ।’

অনুরাগীদের উদ্দেশে কিছুদিন আগে টুইটারে ইরফান লেখেন-

“জীবনে জয়ী হওয়ার সাধনায় মাঝেমধ্যে ভালোবাসার গুরুত্ব ভুলে যাই আমরা। তবে দুর্বল সময় আমাদের তা মনে করিয়ে দেয়। জীবনের পরবর্তী ধাপে পা রাখার আগে তাই খানিকটা সময় থমকে দাঁড়াতে চাই আমি। অফুরন্ত ভালোবাসা এবং পাশে থাকার জন্য আপনাদের সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আপনাদের এই ভালোবাসাই আমার যন্ত্রণায় প্রলেপ দিয়েছে। তাই ফের আপনাদের কাছেই ফিরছি। অন্তর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সকলকে।”

‘আংরেজি মিডিয়াম’ সিনেমাটি মুক্তির আগে ভিডিওতে ইরফান খান বলেন-

‘‘প্রবাদ রয়েছে যে, ‘জীবন যখন আপনার হাতে লেবু ধরিয়ে দেবে ওটা দিয়ে শরবত বানিয়ে খাওয়া উচিত।’ এমন বলা কিন্তু খুবই সহজ, কিন্তু বাস্তবে যখন সত্যি আপনার হাতে জীবন একটা লেবু ধরিয়ে দেবে ওটা দিয়ে ‘শিকাঞ্জি’ বানানোটা বড়ই কঠিন। বাস্তবটা খুবই মুশকিল। যদিও পজিটিভ ভাবনাচিন্তা নিয়ে বেঁচে থাকাই জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত। আশা করছি, এই ছবি থেকে আপনারা অনেক কিছু শিখতে পারবেন। আপনাদের যেমন হাসাবে, তেমন কাঁদাবেও। ট্রেলারের আনন্দ নিন এবং ছবিটা দেখুন। আর হ্যাঁ আমার জন্য অপেক্ষা করবেন।’’