তরকারির সাথে শুটকি, অতিরিক্ত ঝাল আর পানের সাথে পানিতে পঁচানো সুপারি-এই তিন কারণে চট্টগ্রামে বাড়ছে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেসব রোগী আসেন তাদের মধ্যে ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ ক্যান্সারের রোগী বলে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্সার আক্রান্তদের মধ্যে ৭৩ শতাংশই গ্রামের।

এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্যান্সার হওয়ার কারণ হিসেবে শুঁটকিতে ডিটিটির ব্যবহার, তামাক সেবন, পঁচা সুপারি, অতিরিক্ত ঝাল খাওয়া ও নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ের কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজির অধীনে পরিচালিত ‘ল্যাবরেটরি অব ইউকারেউটিক জিন এক্সপ্রেশন অ্যান্ড ফাংশন’ এবং চিটাগাং রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর চিল্ড্রেন সার্জারি (ক্রিকস) যৌথভাবে এই সমীক্ষা চালায়।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের অতিরিক্ত ঝাল খাওয়ার প্রবণতা ও উপকূলীয় মানুষের শুটকি খাওয়ার কারনে ক্যান্সার বেশি হচ্ছে বলে সমীক্ষায় ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে বছরে অন্তত দুই লাখ মানুষ ক্যান্সার আক্রান্ত হন। আর চট্টগ্রামে বছরে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ ক্যান্সার আক্রান্ত হন। তার মধ্যে মহিলারা জরায়ু এবং ব্রেস্ট ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। অপরদিকে পুরুষরা ফুসফুস এবং মলদ্বারের ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

দক্ষিণ চট্টগ্রাম এবং বৃহত্তর কক্সবাজার এলাকায় ব্রেস্ট, জরায়ু এবং খাদ্যনালীর ক্যান্সারের রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

অপরদিকে, সীতাকুন্ড–মিরসরাই এলাকায় ফুসফুসের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার রোগী পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্র জানায়,আক্রান্তদের মধ্যে ৭৩ শতাংশেরই বসবাস চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে। নগরীতে এ হার মাত্র ২৭ শতাংশ। নারীদের ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার হার পুরুষের তুলনায় বেশি। ক্যান্সার শনাক্তদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ নারী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৩১ শতাংশ কক্সবাজার জেলার। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলায় এ হার ১৫ শতাংশ করে।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের আরেকটি উপজেলা পটিয়ায় ক্যান্সার আক্রান্তের হার ১৩ শতাংশ। উত্তর চট্টগ্রামের মধ্যে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় এ হার ১৩ শতাংশ। দক্ষিণ চট্টগ্রামে এ হার বেশি হওয়ার পেছনে শুটকিতে ডিডিটির (এক প্রকার কীটনাশক) ব্যবহার, অতিরিক্ত তামাক সেবন ও ‘কাজিন ম্যারেজ’ (রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে) অন্যতম ‘রিস্ক ফ্যাক্টর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

উপকূলের মানুষ সামুদ্রিক মাছ ও শুঁটকি বেশি খায়। সমুদ্রে রাসায়নিক বর্জ্য ফেলা হয়। এসব বিষাক্ত বর্জ্য সাগরের মাছের ভেতরে ঢোকে। এ ছাড়া শুঁটকি তৈরির সময় সারসহ একাধিক রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে। আর সামুদ্রিক মাছ এবং শুঁটকি সেখানকার বাসিন্দারা বেশি খায়। হয়তো তাই ক্যান্সারের ঝুঁকিটা তাদের বাড়ছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’ তথ্য সূত্রঃ বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা।

লেখক: ফাউন্ডার, রন্ধন মসলা।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)