স্বৈরাচারী ভাবমূর্তির জন্য বরাবরই জনপ্রিয় উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন। দোর্দ’ণ্ডপ্রতাপ এই শাসকের মৃ’ত্যুর খবর দিয়েছে হংকং স্যাটেলাইট টিভি।

সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে যে, কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা বেশ সংকটজনক। গত সপ্তাহে দাদার জন্ম’দিনের সময় থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে অ’প্রত্যাশিতভাবে অনুপস্থিত থাকতে দেখা যায় কিমকে।

সিএনএন’র রিপোর্টে বলা হয়েছে, অ’স্ত্রোপচারের পর বিপজ্জনক অবস্থা হতে পারে কিমের। সংবাদমাধ্যম ডেইলি এন-এর খবর অনুযায়ী, কার্ডিয়ো ভাসকিউলার অ’স্ত্রোপচারের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার শাসক। কিন্তু এই কিম জন উনকে কতটা চিনি আম’রা?

বিলাসবহুল গাড়ি আর দামি-দামি ওয়াইন যে তার পছন্দের তালিকায়, তা কি আগে আম’রা জানতাম? আজ চোখ রাখা যাক, কিম জং উন সংক্রান্ত নানান অজানা তথ্যে।

র’হস্যময় শৈশব এবং বয়স নিয়ে ধোঁয়াশা
নিজের ছোটবেলার ছবি দেখাতে এক্কেবারেই পছন্দ করেন না কিম। তবে ২০১৪ সালের সাম’রিক ছুটিতে উত্তর কোরিয়ায় বড় পর্দায় একটি ছবি দেখানো হয়েছিল। মনে করা হয়, এটিই কিমের শৈশবের ছবি।

নিজেকে বয়স্ক হিসেবেই দেখাতে পছন্দ করেন উত্তর কোরিয়ার শাসক। তার জন্মের সাল এবং তারিখ নিয়ে নানান ধন্দ্ব এবং ধোঁয়াশার সৃষ্টি করেছেন কিম নিজেই। কোথাও বলা হয় কিমের জন্ম ১৯৮২ সালে। কোথাও আবার ১৯৮৩। এমনকি কোথাও কোথাও কিমের জন্মের সাল ১৯৮৪ ও করা হয়েছে। শুধু সাল নয়।

জন্ম তারিখ নিয়েও বিস্তর ধন্দ্ব। যে সমস্ত জায়গায় এই সালগুলো লেখা হয় সেখানে কিমের জন্ম তারিখ হিসেবে হয় ৮ জানুয়ারি না হলে ৬ জুলাই লেখা হয়। তবে কিম কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের জন্মের সাল লেখেন ১৯৮২। যদিও দক্ষিণ কোরিয়ার এক গোয়েন্দা সংস্থা বিগত কিছু বছর আগেই জানিয়েছিল কিমের জন্ম ১৯৮৪ সালে।

অন্য নামে পড়াশোনা
১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল অবধি তিনি সুইৎজারল্যান্ডের বিখ্যাত Liebefeld-Steinhölzli পাবলিক স্কুলে পড়াশোনো করেন। উত্তর কোরিয়ান দূতাবাসে তার রেজিস্ট্রেশন অবশ্য হয়েছিল ভিন্ন নামে। অর্থাৎ কিম জং উন নিজের পরিচয় গো’পন করে পড়াশোনা করেছেন।

ছবি দেখে কিম বা উত্তর কোরিয়ার তরফে বিষয়টি স্বীকার না করা হলেও, তার ওই সময়ের সহপাঠীরা এখন হলফ করে বলেন যে তাদের বন্ধুই এখন বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর এক রাষ্ট্র নায়ক। পাশাপাশিই কিম জং উনের সহপাঠীরা এ-ও বলেন যে, ছাত্র হিসেবে মোটেই ভালো ছিলেন না উত্তর কোরিয়ার দোর্দ’ণ্ডপ্রতাপ শাসক। যদিও পদার্থবিজ্ঞান এবং অর্থনীতিতে ডিগ্রি রয়েছে কিম জং উনের।

বিয়েতে স্ত্রী’কে ব্যয়বহুল উপহার
২০০৯ সালে কিছুটা লুকোছাপা করেই রি সোল জু-কে বিয়ে করেছিলেন উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম। দেশের মানুষও কিমের বিয়ের কোনো খবর পাননি।

তবে সেই সময়ে নানান সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বিয়ের দিন স্ত্রী’কে অ’ত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি উপহার দিয়েছিলেন কিম জং উন। আর সেটি ছিল একটি হ্যান্ডব্যাগ। হ্যান্ডব্যাগ হলে কী’ হবে? সেই ব্যাগ বিখ্যাত সংস্থা ক্রিশ্চিয়ান ডায়ারের। হান্ডব্যাগটির দাম প্রায় ১৪৫৭ ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশী টাকার মূল্যে সেই ব্যাগের দাম প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার টাকার বেশি।

খাদ্যরসিক কিম
কিছু হোক আর না হোক রোজ নিয়ম করে মাংস চাই কিম জং উনের। ডেনমা’র্কের সবথেকে উচ্চ’মানের শুয়োরের মাংস পছন্দ করেন কিম। ই’রানের ক্যাভিয়ার মাংসও তার বেশ পসন্দ। জা’পানের বিখ্যাত থালা সুসি এবং শ্যাম্পেন তো কিমের একপ্রকার নিয়ম করে চাই। গরুর দুধ খেতেও তিনি খুবই পছন্দ করেন। এছাড়াও তার পছন্দ সাপের ওয়াইন দিয়ে তৈরি খাবার-দাবার।

নামী-দামি সিগারেট ও ওয়াইনের শখ
নানা ধরনের বিলিতি ম’দ থেকে নানান ওয়াইনের প্রতি খুবই ভালোবাসা কিমের। প্রতি বছর কিমের ম’দের খরচার পিছনেই চলে যায় ৩০ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মূল্যে যে হিসেবটা দাঁড়ায় প্রায় ২৫৪ কোটি টাকার বেশি। এই স্বৈরশাসকের সবথেকে প্রিয় ওয়াইন হল হেনেসির ওয়াইন, যা বিশ্বের অন্যতম দামি ওয়াইনগু’লির একটি। আর এই এক বোতল ওয়াইনেরই দাম প্রায় ২১১৫ ডলার। টাকার মূল্যে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার কাছাকাছি। কিম যে সিগারেটে সুখটান দেন তার দাম প্রায় ৪৪ ডলারের মতো। টাকার হিসেবে ৩ হাজার ৭৩৯ টাকা প্রায়। আর সেই সিগারেট রাখার জায়গাটি আদতে চামড়ার। তার দাম সিগারেটের প্রায় তিন গুণ।

সিনেমা’র পোকা আর ১০০ গাড়ির মালিক
সিনেমা’র খুবই ভক্ত কিম জং উন। তার কাছে কমপক্ষে ২০ হাজার সিনেমা’র ডিভিডির কালেকশন রয়েছে। তার প্রিয় দুই ছবি ‘র‌্যাম্বো’ এবং ‘গডজিলা’। কিম জং উন সিনেমা’র এমনই অনুরাগী যে নিজের বাড়িতেই ১০০০ আসনের আস্ত একটি সিনেমা হল অবধি বানিয়ে ফেলেছেন। গাড়ির প্রতিও প্রচণ্ড শৌখিন কিম। কিমের গ্যারেজে ১০০টি গাড়ি রয়েছে। সব ধরনের বিখ্যাত ছোট-বড় সবরকমের গাড়িই রয়েছে উত্তর কোরিয়ার শাসকের। তবে কিমের সবথেকে পছন্দের গাড়ি মা’র্সিডিজ বেঞ্জ।

বাস্কেটবল প্রীতি
সুইৎজারল্যান্ডে কিমের সহপাঠীরাই জানিয়েছেন যে, বাস্কেটবল খেলতে দারুণ পছন্দ করত তাদের বন্ধু। এমনকি বাস্কেটবল তারকা মাইকেল জর্ডানের ছবিও আঁকতেন কিম। ২০১৩ সালে কিম জং উন বাস্কেটবল তারকা ডেনিস রডম্যানের সঙ্গে তার নিজস্ব দ্বীপে দেখা করেন। দু’জনের মধ্যে আকাশপাতাল ফারাক থাকা সত্ত্বেও দু’জনের চরম সখ্যতা তৈরি হয়। কিমের সঙ্গে দেখা করার পরই ডেনিস বলেছিলেন, ‘হয়তো ও পাগল, তবে আমি তার কিছুই খুঁজে পাইনি।’

সদা হাসি এবং ক্রমশ ছোট হয়ে আসা ভ্রু-র র’হস্য
যে কোনো পরিস্থিতিতে, যে কোনো মুহূর্তে ঠোঁটে হাসি থাকে কিম জং উনের। আর ঠোঁটের কোণে এই হাসির মূল কারণ, কিম চান সবাই তাকে আমুদে হিসেবেই জানুক। তবে কিমের নানান সময়ের ছবি দেখলে মনে হবে যেন দিনে দিনে ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে তার ভ্রু। নানান সংবাদমাধ্যমে এর আগেও বহুবার বিষয়টি নিয়ে বলা হয়েছে যে, আদপে নিজেকে বাবা কিং জং ইলের মত দেখাতে ইচ্ছে করেই ভ্রু ছোট করছেন উন। কিন্তু এই ব্যাপারে একটি টু শব্দ কখনও করতে শোনা যায়নি কিমকে। এই সময়।