উত্তর কোরিয়ার রাজনীতিতে হঠাৎ শোনা যাচ্ছে দেশটির প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুংয়ের ছেলে কিম পিয়ং ইলের নাম। চল্লিশ বছর ধরে আলোচনার বাইরে থাকার পর কিম জং উনের স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে হঠাৎ আলোচনায় চলে তার নাম।

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর কোরিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক র‌্যাব চেল মিনইয়ং লির মতে, কিম জং উনের উত্তরাধিকারী হিসেবে তারবোন কিম ইয়ো জংকে বিবেচনা করা হলেও বয়স ও লিঙ্গের কারণে তাকে চায় না এমন লোকের সংখ্যাও কম নয়।তাদের কাছে ৬৫ বছর বয়সী এই কিম পিয়ং ইলই বেশি গ্রহণযোগ্য।


উত্তর কোরিয়া প্রতিষ্ঠার পর থেকে কিম পিয়ং ইলকে দেশটির একজন সম্ভাব্য শাসক হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে আসছে। তবে কিম জং উনের বাবা ও নিজের সৎভাই কিম জং ইলের কাছে ক্ষমতার লড়াইয়ে হেরে গিয়ে চুপ হয়ে যান। গত চল্লিশ বছর ধরে তিনি বিদেশে কূটনীতিকের দায়িত্ব পালন করেন। গত বছর পিয়ংইয়ংয়ে ফিরে আসার আগে ফিনল্যান্ড, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্রে ছিলেন। কিম জংয়ের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটার পর থেকেই দেশটির সম্ভাব্য শাসক হিসেবে তার নাম আলোচনায় চলে আসে।


দেশের রাজনীতি থেকে অবশ্য কিম পিয়ং ইলকে কার্যকরভাবেই সরিয়ে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম থেকে সচেতনভাবেই তার নাম বাদ দেয়া হয়। নেতৃত্বের জন্য যে গুরুতর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়, তার কোনো আভাস তিনি নিজে থেকে দেখাতে পারেননি। দেশের হয়ে বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালন শেষে বাড়িতে ফিরে এসে এখন গৃহবন্দি অবস্থায় চুপচাপ সময় কাটাচ্ছেন তিনি।

কিন্তু এখন আলোচনায় স্বাভাবিকভাবেই সম্ভাব্য শাসক হিসেবে তার নাম চলে আসতে শুরু করেছে। তাছাড়া কিম জং উন তার স্থলাভিষিক্ত কে হবে, তা ঘোষণা করেননি। অবশ্য শাসন ক্ষমতার বাইরে থেকে কিম পিয়ং কতটা শাসনভার বহনে সক্ষম হবেন, তা নিয়েও দুশ্চিন্তা রয়েছে অনেকের। তবে বেশির ভাগের মতে, তিনি একজন মানুষ এবং মানুষ হিসেবে কাজটা তার জন্য কষ্টের হলেও একদম কঠিন নয়।


এদিকে কিম জং উনের ছোটবোন কিম ইয়ো জং গত কয়েক বছর ধরে রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন।সরকার এবং শাসক পার্টির নীতি নির্ধারণেও ভূমিকা রাখতে শুরু করেছেন। ২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় চলে আসা যুক্তরাষ্ট্রে উত্তর কোরিয়ার সাবেক উপরাষ্ট্রদূত থিয়ে ইওং হো বলেন, কিম ইয়ো জং একজন নারী। তার ওপর বয়সও কম। তার নেতৃত্বাধীন সরকারের টিকে থাকার সম্ভাবনা খুব বেশি নেই। তার নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত নেতৃত্ব বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তাই কিম জংয়ের অবর্তমানে নেতৃত্বের একটা বড় অংশ তাকে ক্ষমতায় নিয়ে আসার ব্যাপারে উদগ্রীব হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি।