বরাবরই প্রচারের আলোর বাইরে থাকতে পছন্দ করেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার অনিল কুম্বলে। তবে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তটি সিনেমাটিক ঢঙেই নেন তিনি। বিস্তর বাধা পেরিয়ে, অসংখ্য কাঠখড় পুড়িয়ে বিবাহিত এবং এক কন্যাসন্তানের মাকে বিয়ে করেন এ লেগস্পিনার। বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা লেগির এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার নেপথ্যে রয়েছে– অনন্য এক কারণ ও বিশাল প্রেম কাহিনি।

এক ট্রাভেল এজেন্সিতে পরিসেবা নিতে গিয়ে চেতনা রামাতীর্থের সঙ্গে পরিচয় হয় কুম্বলের। তার মিষ্টি ব্যবহারে বিমুগ্ধ হন তিনি। এরই মাঝে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। একে অপরের সঙ্গে দেখা করতেও শুরু করেন তারা।

স্বাভাবিকভাবেই কুম্বলে জানতে পারেন, চেতনা বিবাহত এবং এক কন্যাসন্তানের মা। ১৯৮৬ সালে তার বিয়ে হয়। তবে সাংসারিক অশান্তির জেরে স্বামীর সংসার ছেড়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন তিনি।

অন্ন সংস্থানের নিমিত্তে ওই ট্রাভেল এজেন্সিতে চাকরি নেন চেতনা। সব কিছু জানার পরই তার প্রতি আলাদা জায়গা তৈরি হয় কুম্বলের মনে। গুঞ্জন রয়েছে, ভারতীয় স্পিনারের আশ্বাসেই ১৯৯৮ সালে প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দেন ওই নারী।

এর পর চেতনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কুম্বলে। তবে প্রথমে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন প্রিয় বান্ধবী। অনেক সাধ্য সাধনার পর তার মন জয় করতে সক্ষম হন টিম ইন্ডিয়ার ঘূর্ণি জাদুকর। অতঃপর প্রেমিকার সঙ্গেই গাঁটছড়া বাঁধেন তিনি।

১৯৯৯ সালে দুই পরিবারের সম্মতিতে কুম্বলে-চেতনার দুই হাত এক হয়। সাতপাকে বাঁধা পড়ে মালাবদলের পর স্ত্রীর কন্যাকে নিজের পদবি দিতে উদগ্রীব হয়ে ওঠেন নয়া স্বামী। কিন্তু চেতনার প্রথম স্বামী তাতে রাজি হননি। তবে শোনা যায়, দীর্ঘ আইনি যুদ্ধের পর সেই লড়াইয়ে জেতেন কুম্বলে।

তথ্যসূত্র: ডেইলি হান্ট/ওয়ান ইন্ডিয়া