ভারতজুড়ে করোনার আবহে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও রাজ্যপালের মধ্যে দ্বন্দ্ব আবার চরমে উঠেছে। রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক নিয়ম ও শিষ্টতার গণ্ডি ছাড়িয়ে তাকে ও তার সরকারের মন্ত্রী-আমলাদের আক্রমণ এবং রাজ্য প্রশাসনের কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কয়েক মাস আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের দ্বন্দ্ব রীতিমত ব্যক্তিগত পর্যায়ে দাঁড়িয়েছিল। কিছুদিন ভাটা পড়ার পর করোনার কারণে আবার সেই দ্বন্দ্ব মাথা চাড়া দিয়েছে।

পরিস্থিতি এত গুরুতর হয়েছে যে, চিঠি চালাচালির মাধ্যমে দুজন-দুজনকে চরম অপমান করতেও ছাড়ছেন না। খবর ভয়েস অব আমেরিকা ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ‘জঘন্য ব্যর্থ’ মন্তব্যের পাশাপাশি বিপর্যয়ের মধ্যেও মুখ্যমন্ত্রী মুসলিম তোষণে বেশি ব্যস্ত বলেও অভিযোগ করেছেন রাজ্যপাল।

বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক চিঠিতে রাজ্যপালকে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজে মাথা না গলানোর অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ‘আপনি আপনার মতো করে থাকুন, রাজ্যের প্রশাসনিক কাজে মাথা গলাবেন না। বারবার হস্তক্ষেপ করে আপনি আমাদের কাজকে আরো অসুবিধাজনক করে তুলছেন। মনে রাখবেন আপনি কেন্দ্রীয় সরকারের মনোনীত একজন প্রতিনিধি আর আমি জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি।

এর উত্তরে ওইদিন রাতে রাজ্যপালও একটি চিঠি দেন। তাতে তিনি বলেন, আমরা দু’জনেই সাংবিধানিক প্রতিনিধি। সংবিধান অনুযায়ী আমরা কাজ করতে বাধ্য। আপনি সংবিধান অনুযায়ী চলুন, আমিও সংবিধান অনুযায়ী আমার কাজ করি।

এইখানেই না থেমে জগদীপ ধনকর হুমকি দেন, আজ এই পর্যন্ত, কিন্তু আগামীকাল আমি আরো কিছু কথা বলবো।

সেই অনুযায়ী আজ শুক্রবার সকালে আর একটি সাত পাতার চিঠি লিখেছেন রাজ্যপাল।

তাতে মুখ্যমন্ত্রীকে তিনি তুলোধোনা করে বলেছেন, আপনি আপনার রাজ্যে যেভাবে করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলা করছেন, সেটা খুব দুর্ভাগ্যজনক এবং আমি সেই দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করায় আপনার অসুবিধে মনে হচ্ছে। কিন্তু আমি আমার কাজ করবো কারণ এটা আমার কর্তব্য।

আরো বলি, আমি মনোনীত নই, কেন্দ্র থেকে এই সাংবিধানিক পদে নিযুক্ত। আপনি মুসলিম তোষণে এত বেশি ব্যস্ত যে রাজ্যের কাজে সময় দিতে পারছেন না। চিঠিতে আরো অনেক উত্তেজক কথাবার্তা লিখেছেন জগদীপ ধনকর।

এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিবঙ্গের বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান ও বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী করোনা পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার, রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি সংঘাত থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছেন।

তাদের বক্তব্য, ‘মানুষের বিপদের কথা ভেবে এই ‘যুদ্ধ’ এখন বন্ধ রাখুন।