করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসেবে ১০ হাজার ছাড়ালো! বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যাটা কতো হতে পারে, আন্দাজ করেন তো? ২০ হাজার? ৩০ হাজার? ৪০ হাজার? আচ্ছা, ধরে নিচ্ছি ৩০ হাজারই।

এই মে মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা যেখানে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, সেখানে আমরা সব দরোজা-জানালা একেবারে বন্ধ করে দেয়ার বদলে খুলে দিতে শুরু করেছি! দোকানপাট, রেস্তোরাঁ ও শপিং সেন্টারগুলি খুলে দেয়ার পর আক্রান্ত ৩০ হাজার রোগীর প্রত্যেকে গড়ে ৭ দিনে ৫ জন লোককে আক্রান্ত করলে এই সংখ্যা দাঁড়াবে ১ লাখ ৫০ হাজার! তারা প্রত্যেকে পরবর্তী ৭ দিনে আরো ৫ জন করে আক্রান্ত করলে এই সংখ্যা দাঁড়াবে মাত্র ৭ লাখ ৫০ হাজারে!
থাক, আরো কম করে বলি। ধরেন আক্রান্তের সংখ্যা ঈদের আগেই দাঁড়ালো ৫ লাখ। ধরা যাক, এদের মাত্র ১০ শতাংশ মৃত্যুবরণ করলো। তো, মৃত্যুর সংখ্যা কতো দাঁড়াবে?

জ্বি, এ মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা চূড়া স্পর্শ করতে পারে। এ সময়ে আমরা সামাজিক দূরত্ব না বাড়িয়ে তাকে সামাজিক ঢলাঢলিতে পরিণত করতে চলেছি।

ফলে, যারা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করবেন বলে আমরা আশংকা করছি, সেটাকে আত্মহত্যা ধরে নেয়াই সঙ্গত হবে। আপনারা দোকানপাট, শপিংসেন্টার, রেস্তোরাঁ খুলে দিলে লোকজন কি সেখানে যাবেন না? বাঙালিরা খুবই ধার্মিক প্রজাতির। তারা বিশ্বাস করেন, ‘রাখে আল্লাহ, মারে কে’?
ফলে, তারা ভেবে নেন, করোনা আপনার হতে পারে, আমার হতে পারে, কিন্তু কেবল তাদের হবে না। তারা এতোই আল্লাহর খাস বান্দা যে করোনা তাদেরকে খুঁজেই পাবে না!

কাজেই বেশি বেশি ঈদের শপিং করুন, হে বঙ্গসন্তানেরা। বন্ধু-বান্ধবী, দলবল নিয়ে রেস্তোরাঁয় ইফতার করুন। সেহরি করুন। বিকেলে বা সন্ধ্যেবেলা ডেটিঙে যান।
পানশালাগুলোই বা বাকি থাকবে কেন? সেগুলোও খুলে দেয়া হোক। সতেরো কোটি মানুষের মধ্যে দশ-বিশ হাজার মরে গেলে কী এসে যায়!

এটা স্পষ্ট, সরকারকে ভালো বুদ্ধি দেয়ার কেউ নাই! সরকার আছে ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ অবস্থায়। একদিকে সাধারণ ছুটি দিচ্ছে, অন্যদিকে সব খুলে দিচ্ছে!

আমাদের দেশে স্বাধীন ও মুক্তচিন্তার বুদ্ধিজীবী বলতে কি কেউ নাই, যারা সরকারকে একটু সুবুদ্ধি দিতে পারে?
আসলেই আমাদের দেশে বুদ্ধিজীবী এখন কারা? দু’-একটা নাম বলেন তো? যার বা যাদের কথায় সরকার কান দেবে? মানে, গুরুত্বের সঙ্গে তাদের কথা শুনবে? আমি সত্যিই তাদের খুঁজছি। সরকারকে সৎ পরামর্শ দেয়ার কেউ কি আছেন? সরকারের ভুল কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে পারেন, উচিত কথা কইতে পারেন, এমন আছেন কেউ?

নাকি সরকারের কাছে সকলেই মাথা বিক্রি করে দিয়ে বসে আছেন? আমার তো এখন সব বুদ্ধিজীবীকেই মাথাহীন মনে হয়। তারা কেবল ধরটুকু নিয়েই ঘুরে বেড়াচ্ছেন! বেড়াক তারা।

চলেন আমরা ঈদের শপিং করি, রেস্তোরাঁয় বসে বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজন নিয়ে খাওয়া দাওয়া করি। তারপর করোনাভাইরাসের মালা গলায় পরে সদলবলে আত্মহত্যা করি। আমাদের মতো বেকুব জনগণের বেঁচে থাকার দরকারইবা কী?

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

লেখক: সাংবাদিক