‘বয়কট’ মাথায় নিয়েই দেশ ছাড়লেন ঢাকাই ছবির খল অভিনেতা মিশা সওদাগর। ১০ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় পৌচেছেন বলে জানান এ অভিনেতা। মিশা দেশে থাকলেও তার স্ত্রী-সন্তান আমেরিকায় অবস্থান করছিলেন। তাদের সঙ্গে দেখা করতেই তার আমেরিকায় যাওয়া। মিশা সওদাগর আমেরিকারও নাগরিক। 

এদিকে শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানকে বয়কট করেছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৯টি সংগঠন। সে বয়কটের কোন সুরাহা না করেই মিশা সওদাগরের দেশ ছাড়ার বিষয়টি দায়িত্বহীনতার পরিচয় বলে মন্তব্য করছেন ১৯টি সংগঠনের নেতারা। 

এর আগে চলচ্চিত্র স্বার্থ রক্ষণে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৯টি সংগঠন থেকে ‘বয়কট’ করা হয় শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ও জায়েদ খানকে। বয়কটের ফলে তাদের নিয়ে চলচ্চিত্রের কেউ কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সংগঠগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়। 

বয়কটের কারণে মিশা সওদাগর কোন নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হতে পারছিলেন না। ফলে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৯টি সংগঠনের নীতিমালা মেনে কাজ করতে আপসের পথে হাঁটছিলেন মিশা সওদাগর।২২ আগস্ট ১৯ সংগঠনের এক মিটিংয়ে মিশা সওদাগর উপস্থিত হয়ে ১৯ সংগঠনের সকল নীতিমালা মেনে কাজ করার আবেদন করেন। মিশার আবেদন আমলে নিয়ে ১৯ সংগঠনের নেতারা তাকে কিছু শর্ত জুড়ে দিয়ে আগামী মিটিং পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখার কথা বলেন। সে শর্ত না মেনেই ১৯ সংগঠনকে কিছু না জানিয়েই উড়াল দিলেন মিশা। 

হুট করে মিশা সওদাগরের দেশ ছাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরাশেদ আলম খসরু। তিনি বলেন, ‘মিশা এমন কাজ কেনো করলো বুঝতে পারছিনা। কাউকে কিছু না জানিয়েই আমেরিকায় চলে গেলেন। চলচ্চিত্রে আর কাজ করবেন কি করবেন না তাও বুঝতে পারছিনা।’

১৯ সংগঠনের পক্ষ থেকে মিশাকে যে শর্ত জুড়ে দিয়ে আগামী মিটিং পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখার কথা বলেন। সে শর্তগুলো হচ্ছে – চলচ্চিত্রের স্বার্থে ১৯ সংগঠনের নীতিমালা মেনে কাজ করতে হবে, শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের অনৈতিক কর্মকাণ্ড সমর্থন করা যাবে না। মিশা সওদাগর যে ১৯ সংগঠনের নীতিমালা মেনে কাজ করছেন তা শিল্পী সমিতির সকল সদস্যকে লিখিতভাবে জানিয়ে দিতে হবে এবং অন্যায়ভাবে শিল্পী সমিতির ভোটাধিকার খর্ব করা ১৮৪ জন শিল্পীর ভোটাধিকার পুনঃর্বহাল করার ব্যবস্থা করতে হবে।

কিন্তু এ শর্তগুলো মানেনি মিশা সওদাগর। তাই তাকে কাজ করার অনুমতিও দেয়া হয়নি। খসরু বলেন, ‘মিশা সওদাগরকে আমরা যে শর্ত দিয়েছিলাম তা সে মানেনি। তাই চলচ্চিত্রের স্বার্থে তাকে কাজের অনুমতিও দেয়া হয়নি।’

মিশার বিদেশ পাড়ি দেয়া ও তাদের বয়কটের বিষয়টি বৃহস্পতিবার ১৯ সংগঠনের পক্ষ থেকে জরুরী মিটিং ডাকা হয়েছে। সেখানেই মিশা-জায়েদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বল জানান প্রযোজক সমিতির এ নেতা।

0000

অবশ্যই পড়ুন

0000