ধর্ষণের মামলায় জেল খেটে বেরিয়ে আসা দুর্ধর্ষ এক কিশোর পারভেজ (১৭)। মোবাইল ফোন চুরি করতে গিয়ে চিনে ফেলায় প্রবাসীর স্ত্রী ও তিন সন্তানকে খুন করেছে সে। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় গত বুধবার রাতে জৈনাবাজার আবদার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে গাজীপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. শরীফুল ইসলামের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা আদালতের ইন্সপেক্টর মীর রকিবুল হক।

মোবাইল চুরি করতে গিয়ে চিনে ফেলায় ঘরের ভেতরে মা ও তিন সন্তানকে গলাকেটে হত্যার কথা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেপ্তার হওয়া পারভেজ।

পিবিআই’র পরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান জানান, গতকাল রোববার মধ্যরাতে আবদার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে মা-সন্তানদের খুনের কথা স্বীকার করলে আদালতে ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি নেওয়া হয়। ২ মাস আগেও ওই কিশোর নিহতের বড় মেয়েকে ‍উত্ত্যক্ত করতে গিয়ে তাদের ঘরের খাটের নিচ থেকে ধরা পড়ে। পরে ক্ষমা চেয়ে ছাড়া পায়।

গত বুধবার মধ্যরাতে মোবাইল চুরি করতে গিয়ে চিনে ফেলায় প্রথমে বটি দিয়ে মাকে (গৃহবধূ) এবং পরে ঘুম থেকে জেগে উঠলে একে একে ঘরে থাকা তিন সন্তানের মাথা-শরীরে কুপিয়ে জখম করে রশি দিয়ে বেঁধে মা-মেয়েকে ধর্ষণ করে। এর পর ধারালো চাকু দিয়ে তাদের গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করে। এ সময় অপো ও ভিভো কোম্পানির দুটি মোবাইল ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালিয়ে যায়।

পারভেজ ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই এলাকার বসবাসরত ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় গ্রেপ্তারের পর ৯ মাসের জেল খেটে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছে। আজ জবানবন্দি শেষে আদালতের নির্দেশে আবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গতকাল রাতে গ্রেপ্তার হওয়া ওই কিশোরের দেওয়া তথ্যমতে তার ঘর থেকে নিহতদের রক্তমাখা কাপড় ও মাটির নিচে চাপা দেওয়া অবস্থায় লুট করা দুটি মোবাইল ফোন এবং একটি পায়জামার ভেতরে রাখা স্বর্ণের তিনটি গলার চেইন, কানের দুল, আংটি ও নাক ফুল উদ্ধার করা হয়েছে। পারভেজের নামে শ্রীপুর থানায় আগেও খুন ও ধর্ষণের মামলা রয়েছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী জানান, গত বুধবার রাতে আবদার এলাকায় নিজ বাড়িতে খুন হন মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে। এ ঘটনায় পরদিন প্রবাসীর বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা খুনীদের উল্লেখ করে মামলা করেন এবং পিবিআই, র‌্যাবসহ পুলিশের তদন্তকারী একাধিক টিম জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। খুনের তিনদিন পরই গ্রেপ্তার হলো পারভেজ।