পেঁপের নমুনা পরীক্ষায় ‘করোনাভাইরাস পজিটিভ’ আসার অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে তানজানিয়ায়। এ জন্য দেশটির ন্যাশনাল হেলথ ল্যাবরেটরির পরিচালক ও কোয়ালিটি ম্যানেজারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। হ্যাঁ, ঘটনাটি অবিশ্বাস্যই; কেননা কোনো ফলমূল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বৈজ্ঞানিক তথ্য এখন পর্যন্ত নেই।

বিবিসির খবরে বলা হয়, তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট জন মাগুফুলি ওই ল্যাবরেটরিতে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত কিটের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার এক দিন পর শীর্ষ ওই কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

গত সোমবার সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে মাগুফুলি বলেন, ‘প্রাণী ও ফলের নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলোতে মানুষের নাম ও বয়স লিখে পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়েছিল করোনাভাইরাস ল্যাবরেটরিতে। তার কিছু নেগেটিভ ও কিছু পজিটিভ এসেছে। যেমন গাড়ির তেলের নমুনায় জাবির হামজা, বয়স-৩০ (পুরুষ) লেখা হয়েছিল, ফল এসেছে নেগেটিভ। সারা সামওয়েলি, ৪৫ বছর বয়সী নারী—এমনটি লিখে কাঁঠালের একটি নমুনা পাঠিয়েছিলাম আমরা, এই পরীক্ষার ফল নিষ্পত্তিহীন ছিল। কিন্তু যখন এলিজাবেথ অ্যান, ২৬ বছর লিখে পেঁপের নমুনা পাঠানো হলো, তখন পেঁপের করোনাভাইরাস ধরা পড়ল।’

প্রেসিডেন্ট জানান, একটি পাখি ও একটি ছাগলের নমুনার দুটিই পজিটিভি এসেছে; কিন্তু খরগোশের নমুনা পরীক্ষায় কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি ল্যাব।

তানজানিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। ওই ল্যাবরেটরি কিভাবে পরিচালিত হচ্ছে তা তদন্ত করে ১৩ মের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে কমিটি। তবে ল্যাবরেটরিটিতে করোনাভাইরাস পরীক্ষা অব্যাহত থাকবে।

করোনাভাইরাসের মহামারি মোকাবেলায় শিথিল পদক্ষেপের কারণে এরই মধ্যে সমালোচনায় পড়েছে তানজানিয়া সরকার। তারা যথেষ্ট কঠোর হচ্ছে না এবং আসল পরিস্থিতি গোপন করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে সরকারের দাবি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া গাইডলাইন তারা সতর্কভাবে অনুসরণ করে চলছে।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ৪৮০ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে; মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের।