করোনার চিকিৎসায় নতুন দিশা হিসাবে ভাবা হচ্ছে প্লাজমা থেরাপিকে। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে এই পদ্ধতিতে কভিড-১৯ রোগীরা সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানা গিয়েছিল। চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশেও করোনা রোগীকে সুস্থ করে তুলতে প্লাজমা থেরাপির কার্যকারিতা পরখ করে দেখা হচ্ছে। প্লাজমা ট্রায়ালে কেন্দ্রের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় ছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলিও। কিন্তু কেন্দ্রের নির্দেশে পরিষ্কার, সমস্ত চিকিৎসা বন্ধ করে প্লাজমার দ্বারস্থ হওয়া চলবে না কারণ তার কার্যকারিতা এখনও প্রমাণিত নয়। ভারতের এই পদ্ধতি প্রয়োগ কতটা কার্যকরি সেটা এখনো গবেষণার স্তরেই আছে।

মঙ্গলবার বিকেলের বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব লব আগরওয়াল বলেন, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) এই থেরাপি নিয়ে ট্রায়াল শুরু করেছে। সঠিক নির্দেশিকা না মেনে এবং এই থেরাপির নিয়ম না জেনেই যদি যথেচ্ছভাবে রোগীদের উপর প্রয়োগ করা শুরু হয় তাহলে ফল ভাল নাও হতে পারে। তিনি বলেন, সব থেরাপির একটা নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। প্লাজমা থেরাপি সেই নিয়ম মেনে না করলে রোগীদের জন্য বিপজ্জনকও হতে পারে।

প্লাজমা থেরাপি কোনো নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। আগেও নানা সংক্রামক রোগের চিকিৎসায় এই থেরাপি ব্যবহার করা হয়েছে। করোনা রোগীদের উপরে এই থেরাপি কীভাবে প্রয়োগ করা যায় সেই নিয়ে গবেষণা চলছে বিশ্বজুড়েই।

আইসিএমআর আগেই জানিয়েছিল, কভিড-১৯ পজিটিভ রোগীদের উপরে প্লাজমা থেরাপির প্রয়োগ করা যেতে পারে, তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের গবেষণা চলছে। পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির(এনআইভি) সহযোগিতায় প্লাজমা থেরাপির ট্রায়াল শুরু হয়েছে।

লব আগরওয়াল বলেন, করোনার চিকিৎসায় অন্যান্য থেরাপির মতো প্লাজমা থেরাপি নিয়েও গবেষণা চলছে। তবে এই থেরাপি যে সবক্ষেত্রেই কার্যকরী হবে এমনটা এখনো বলার সময় হয়নি। বরং এই থেরাপি প্রয়োগের সময় সঠিক গাইডলাইন মেনে চলাই উচিত।

প্লাজমা থেরাপি হল এমন পদ্ধতি যেখানে সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠাদের প্লাজমা বা রক্তরস সংগ্রহ করে সেটা প্রয়োগ করা হয় আক্রান্তের শরীরে।  তাহলে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির অ্যান্টিবডি আক্রান্তের শরীরে গিয়ে ভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে পারবে বলেই ধারণা বিজ্ঞানীদের। বিশ্বের অনেক দেশে নাকি এই থেরাপি ভালো সুফল দিচ্ছে।

তবে এই প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগের অনেক নিয়ম আছে। আইসিএমআর জানিয়েছিল, প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগের আগে, দাতা ও গ্রহীতার রক্তের গ্রুপ ও রক্তের আরও কিছু পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। কারণ প্লাজমা থেরাপি সব রোগীর উপরে প্রয়োগ করা নাও যেতে পারে। সংক্রমণের ধরন, উপসর্গ, রোগীদের শারীরিক অবস্থা অনেক কিছু পরীক্ষা করে দেখে তবেই এই থেরাপির প্রয়োগ হতে পারে। তার ওপর দাতার শরীরে সংক্রমণ থেকে গেছে কিনা সেটাও নিশ্চিত হওয়া জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে ওঠার পরেও তাকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রেখে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। এরপরেও টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তবেই তাকে পুরোপুরি সুস্থ বলা যায়। তখন তার প্লাজমা থেরাপির জন্য নেওয়া যেতে পারে।

সূত্র- দ্য ওয়াল।