লকডাউন কতদিন চলবে সে ব্যাপারে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। তার আগেই কেন্দ্রীয় সরকারের চিন্তা বাড়িয়ে দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে এক হাজার নয়শ ৭৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হলেন।

তবে আশার খবর হলো, লাইফ সাপোর্টে যাওয়া এক রোগী প্লাজমা-চিকিৎসায় সেরে উঠেছেন। দিল্লির বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ দাবি করেছে। 

গতকাল রবিবার থেকে ভারতে নতুন সংক্রমণ ১৯৭৫ জন। আর মারা গেছেন আরো ৪৭ জন। আজ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন যদিও দাবি করেন, ভারতে ‘হটস্পট’ জেলার সংখ্যা কমে আসছে। তবে সে ব্যাপারে কোনো পরিসংখ্যান দেননি তিনি। 

গতকাল রাতে জানা যায়, নয়াদিল্লির এমসে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি’ (ওএসডি) যে অফিসটিতে বসেন, সেখানকার এক নিরাপত্তা প্রহরী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

তাকে এবং আরো বেশ কয়েকজন কর্মীকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর পর পুরো ‘উইং’ জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে। দিল্লির আম্বেদকর হাসপাতালের এক নার্সও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।  অন্ধ্র প্রদেশের রাজভবনের চারজন কর্মীর এবং সেই রাজ্যের শাসক দল ওয়াইএসআর কংগ্রেসের এক সাংসদের পরিবারের ছয়জনের করোনা ধরা পড়েছে।  

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এ রোগ থেকে সেরে ওঠা কোনো ব্যক্তির প্লাজমা বা রক্তরস প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে চিকিৎসা কত দূর কার্যকর হতে পারে, সেই চর্চা চলছিল। 

দিল্লির বেসরকারি একটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সেখানে ভর্তি-হওয়া ৪৯ বছর বয়সী করোনা আক্রান্তকে দিন সাতেক আগে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। 

তবে অবস্থার তেমন উন্নতি না-হওয়ায় পরিবারের অনুমতি নিয়েই করোনা-সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা এক ব্যক্তির প্লাজমা তার শরীরে পুশ করে চিকিৎসা শুরু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, চতুর্থ দিনের পর থেকেই সুস্থ হয়ে উঠতে থাকেন ওই রোগী। আজ তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। 

তবে ভারত সরকারের নির্দেশ মেনে আরো দুই সপ্তাহ তাকে ঘরবন্দি থাকতে হবে। 

সূত্র : আনন্দবাজার