করোনাভাইরাস ত্রাসের মধ্যে নরেন্দ্র মোদি যখন আরব দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক মসৃণ করার চেষ্টা করছেন, ঠিক সেই সময়েই নতুন অভিযোগে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে ভারত সরকার। তবিলিগি জামাত নিয়ে দেশ জুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া-সহ বিভিন্ন স্তরে মুসলিম-বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে বলে ভারতের দিকে আঙুল তুলেছে আন্তর্জাতিক মহল।

গোটা বিষয়টি সামলাতে কোমর বেঁধেছে ভারত সরকার। আরব দেশগুলোতে প্রায় ৮০ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত বসবাস করেন। নয়াদিল্লি কোনো ভাবেই চায় না সে দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হোক, যাতে দলে দলে ভারতীয়কে আপৎকালীন ভিত্তিতে ফিরিয়ে আনতে হয়। সে কারণে ৬টি আরব দেশের সঙ্গে বারবার ফোনে কথা বলে সে সব দেশে চিকিৎসক, চিকিৎসা কর্মী এবং পর্যাপ্ত ওষুধ পাঠানো হয়েছে। তা ছাড়া করোনা-পরবর্তী সময়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আরবকে পাশে পাওয়া যে জরুরি, সেটাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

কিন্তু সম্প্রতি মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক মঞ্চ ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) প্রকাশ্যে ভারতের সমালোচনা করে বলেছে, ‘ভারতে মুসলিম বিদ্বেষের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে ব্যবস্থা নিক সে দেশের সরকার। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী সে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষিত করা হোক।’ মার্কিন মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে, ধর্মীয় সংখ্যালঘু করোনা আক্রান্তদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক ব্যবহার করা হচ্ছে গুজরাতের হাসপাতালে।

ক্ষত মেরামতির জন্য একইসঙ্গে আসরে নেমেছে ভারত সরকার এবং বিজেপি। দলের নেতা মুখতার আব্বাস নকভি ওআইসি-র মন্তব্য সম্পর্কে বলেন, “সংখ্যালঘু এবং মুসলমানদের স্বর্গরাজ্য হলো ভারত। তাদের সামাজিক অর্থনৈতিক এবং ধর্মীয় অধিকার এখানে সুরক্ষিত। কেউ যদি নিজেদের অন্ধবিশ্বাস থেকে কথা বলে আলাদা কথা। বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই অভিযোগ করা উচিত।”

পাশাপাশি আরব দেশগুলোতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসগুলিকে ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নেতৃত্বের সঙ্গে অবিরাম যোগাযোগ রাখা এবং সেখানকার ভারতীয়দের সুবিধা অসুবিধার দিকে নজর রাখতে অফিসারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আনন্দবাজার পত্রিকা