ঘরের জানালা দিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে গল্প করছিলেন প্রবাসির স্ত্রী মৌ আক্তার। ধারণা করা হচ্ছে সেই গল্প শ্বশুর-শাশুড়ি দেখে ফেলায় লজ্জায় আত্মহত্যা করেছে মৌ। বৃহস্পতিবার নিজ ঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মৃত মৌ আক্তার মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের বেগুনটিউরি গ্রামের প্রবাসী আলামিনের স্ত্রী ও একই উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের জায়গীর গ্রামের মকবুল হোসেনের মেয়ে।

জানা যায়, আট মাস আগে মৌ আক্তারের সাথে আলামিনের (২৮) বিয়ে হয়। বিয়ের দেড়মাস পর স্বামী আলামিন মালয়েশিয়া চলে যান। মৌ আক্তার স্বামীর বাড়িতে শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে থাকতেন।

গত বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে কোহিনুর ইসলাম (১৮) নামে পরোকিয়া প্রেমিক মৌ আক্তারের সাথে দেখা করতে মৌ-এর শ্বশুর বাড়িতে যায়। এ সময় কোহিনুরের সাথে তার সহযোগী রুপম (১০) ছিল।

মৌ-এর অভিযুক্ত পরকীয়া প্রেমিক কোহিনুর সিংগাইর পৌর এলাকার নয়াডাঙ্গি মহল্লার পান বিক্রেতা শাহজাহানের ছেলে ও তার সহযোগী রুপম একই মহল্লার পলাশের ছেলে।

মৌ আক্তারের শ্বশুরবাড়ির চারদিকে বাউন্ডারি দেয়াল থাকায় রুপমকে পাহারায় রেখে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে জানালা দিয়ে কথা বলতে থাকে কোহিনুর। এ সময় শ্বশুর-শাশুড়ি টের পেয়ে বাড়ির বাইরে এসে রুপমকে ধরে ফেলে ঘরে আটকে রাখেন। পরকীয়া প্রেমিক কোহিনুর পালিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে লজ্জা-অপমান সহ্য করতে না পেরে মৌ আক্তার গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে দাবি করে শ্বশুরবাড়ির লোক।

এদিকে পুলিশ আটককৃত রুপমকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়।

এদিকে নিহত মৌ-এর পরিবারের দাবি, মৌ আক্তারকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন।

এ ব্যাপারে লাশের সুরতহাল প্রস্তুতকারী তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মনোহর বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রবাসীর স্ত্রী অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট ছাড়া কিছুই বলা যাচ্ছে না। আটককৃত রুপমের বয়স অল্প বিধায় তাকে পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।