করোনাভাইরাসের উপসর্গ  থাকায় স্ত্রী-সন্তান ঘরে ঢুকতে দেননি। তাই আশ্রয় নেন বোনের বাড়িতে। অঃপর সেখানেই মৃত্যু হয় গার্মেন্টস কর্মীর!

তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের মুদাফর্দি গ্রামের নজরুল ইসলাম (৫৫)। মৃত্যু হয় একই উপজেলার বোনের বাড়ি বারপাড়া ইউনিয়নের বারইকান্দি গ্রামে। বুধবার বিকালে তাকে দাফন করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকার মিরপুরে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন নজরুল ইসলাম। গত ৩ দিন আগে করোনা উপসর্গ নিয়ে নিজ বাড়িতে আসেন।

শরীরে উপসর্গ থাকায় নিজের স্ত্রী ও সন্তানেরা বাড়িতে জায়গা না দিয়ে ঢাকায় চলে যেতে বলে। তখন রাত গভীর। নজরুল নিরুপায় হয়ে বোনের বাড়ি বারপাড়া ইউনিয়নের বারইকান্দি গ্রামে লুকিয়ে আশ্রয় নেন। ৬ মে স্বাস্থ্যের অবনতি হলে বিষয়টি দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবহিত করা হয়। চিকিৎকরা সেখানে পৌঁছানোর আগেই ওই ব্যক্তি মারা যান। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহিনুল আলম সুমন জানান, তার স্বাস্থ্যের অবনতি হলে রেপিড রেসপন্সটিম পাঠাই। এর মধ্যেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য বিধি মেনে দাফন করা হয়।

আত্মীয় স্বজন বা অন্য কেউ আগে তার সম্পর্কে আমাদেরকে জানালো না। আরও দুঃখজনক হল স্ত্রী ও নিজ সন্তানরা তাকে নিজ বাড়িতে ঢুকতে দিল না। দাউদকান্দিবাসীকে বলব, এই করোনাভাইরাস দুনিয়াতেই হাশরের মাঠে কি হবে তা দেখিয়ে দিচ্ছে। তাই সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে দয়া করে ঘরে থাকুন। নতুবা কালকে এমন মৃত্যু আপনারও হতে পারে।