দেশে করোনাভাইরা’সের প্রাদুর্ভাব দিন দিনই বাড়ছে। এমতাবস্থায় উপস’র্গ দেখা দিলেই এখন পরীক্ষা করা উচিত। কিন্তু অনেক সময় কা’রো কারো ক্ষেত্রে উপসর্গই দেখা যায় না। আবার কারো ক্ষেত্রে উপ’সর্গ থাকলেও করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ছে না। সব মিলি’য়ে করোনাভাইরাস নিয়ে নানাজনে’র মনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এরকম পরিস্থিতিতে উপস’র্গহীন করোনা সংক্রমণ এবং উপসর্গযুক্ত সংক্রম’ণে আসলে করণীয় কী?

করোনা মা’নেই মৃত্যু অবধারিত?
করোনাভাইরাস সংক্রমণ মানেই মৃত্যু অব’ধারিত-বিষয়টি মোটেই তা নয়। শতকরা ৮০-৮৫ ভাগ রোগী’ই মৃদু সংক্রমণে ভুগে থাকেন। যার জন্য তেমন কোনো চিকিৎসা’রও দরকার হয় না। নিজে থেকেই তারা স’ম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। শতকরা ১০-১৫ ভাগ রোগী’র ক্ষেত্রে সংক্রমণ মাঝারি আকার ধারণ করতে পারে। যার জন্য অক্সিজে’ন প্রয়োজন পড়তে পারে।

এ ধরনের রোগীরাও বেশিরভা’গই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। শতকরা ৫-১০ ভাগ রোগীর ক্ষে’ত্রে সংক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। যার জন্য ভেন্টিলেটর সাপোর্টের প্রয়ো’জন হতে পারে। এ ধরনের রোগীরাও অনে’কেই সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং শতকরা ৬-৭ জন রোগী মৃত্যুবরণ করতে পারেন। বয়স্ক ব্যক্তি, যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষ’মতা দুর্বল, যারা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানির মতো রোগে দীর্ঘ’দিন ধরে ভুগছেন; তারা আরও বেশি ঝুঁকির মাঝে অবস্থা’ন করেন।

কোনো উপসর্গ নেই, তবু ক’রোনা হতে পারে?
করোনা সংক্রমিত ৮০ শতাংশ রো’গীর উপসর্গ থাকে খুবই মৃদু, সাধারণ সর্দিজ্বরের মতো। যুক্তরাষ্ট্রে’র রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা সিডিসির তথ্যমতে, ২৫ শতাংশ রোগীর আদৌ কো’নো উপসর্গই থাকে না। এ ধরনের রোগী নিজের অজা’ন্তেই আক্রান্ত হয়ে সেরে উঠছেন। তবে তারা চারপা’শে সংক্রমণ ছড়াতে ভূমি’কা রাখছেন। এই দলে শিশু-কিশোরদের সংখ্যা’ই বেশি। রোগীদের একটা অংশ আবার প্রি-সিম্পটোমে’টিক। মানে, তাদের উপসর্গ দেখা দি’চ্ছে একটু দেরিতে। কিন্তু তার আগেই ভাইরাস ছড়া’তে শুরু করেন তারা।

কাজেই জ্বর-কা’শি না থাকলেও যে আপনি বা আপনার চারপা’শের সবাই নিরাপদ ও করোনামুক্ত, তা কিন্তু নয়। এ ক্ষেত্রে পরা’মর্শ হলো, যতদিন লকডাউন চালু থাকে; ততদিন আ’লাদা ঘরে থাকুন, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন, মাস্ক পরু’ন। সাথে কোনো জনসমাগ’ম স্থান এড়িয়ে চলুন এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবি’ধি মেনে চলুন, যেখানে সেখা’নে কফ-থুথু ফেলবেন না।

উপসর্গ আছে, কিন্তু নে’গেটিভ হলে করণীয় কী?
করোনা নির্ণয়ের জন্য যে আরটি পিসিআ’র পরীক্ষা করা হয়, তা ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে ফলস নেগেটিভ রিপো’র্ট দিতে পারে। নমুনা সংগ্রহে’র সময় অসতর্কতা, শরীরে ভাইরা’ল লোড (জীবাণুর সংখ্যা) কম থাকা বা সঠিক সময়ে পরীক্ষা না করার কারণে এমন’টা হয়। এর সমাধান হলো রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও সতর্ক’তা অবলম্বন করে ১৪ দিন আইসোলেশনে (সঙ্গ’নিরোধ) থাকতে হবে। উল্লেখিত সব যথাযথ স্বাস্থ্যবি’ধি মেনে চলতে হবে। কাশি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি থাকলে বুকের সি’টি স্ক্যান একটি বিকল্প পরীক্ষা, যা ক্ষেত্রবিশেষে ৯৭ শতাংশ নিশ্চি’ত করে বলে দিতে পারে করোনার সংক্র’মণ হয়েছে কি-না।