করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের কৃত্রিম উপায়ে শ্বাসপ্রশ্বাস দিতে ভেন্টিলেটর ব্যবহার করা হলেও তাতেও রক্ষা হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সবচেয়ে বেশি কোভিড-১৯ রোগী দেখভাল করা নর্থওয়েল হেলথের অধীনে ভেন্টিলেশনে থাকা প্রায় ৯০ শতাংশ করোনা আক্রান্ত রোগী মারা গেছেন।

বিশ্বব্যাপী এই ভাইরাস মহামারি রূপ নিলে রোগীদের শ্বাসকষ্ট দূর করতে এই যন্ত্রটিরই বেশি প্রয়োজন পড়ছিল। যারা শ্বাস নিতে পারছিলেন না, এর মাধ্যমে তাদের ফুসফুসে বাতাস পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

নিউইয়র্ক পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নর্থওয়েল হেলথের প্রায় ৬ হাজার রোগীর অর্ধেকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গুরুতর অসুস্থ এই রোগীদের বাঁচাতে ভেন্টিলেটর কোনো ভূমিকা রাখছে না। নর্থওয়েলের গবেষকদের এই গবেষণাপত্র আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

সংস্থার চিকিৎসক সাফিয়া রিচার্ডসন বলেন, ১২ শতাংশ কোভিড-১৯ রোগীর ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন হয়। তারা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে যাদের অবস্থা গুরুতর হয়, তাদের অর্ধেকের বেশি উচ্চ রক্তচাপের রোগী, ৪১ শতাংশের রয়েছে স্থূলতার সমস্যা, আর ৩৪ শতাংশের রয়েছে ডায়াবেটিস।

‘যারা মারা গেছে, তাদের মধ্যে যারা ডায়াবেটিস, তাদেরই বেশি ভেন্টিলেটর কিংবা আইসিইউ লাগছিল,’ বলা হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, রোগীদের মধ্যে নারীর চেয়ে পুরুষের সংখ্যা বেশি। আর ১৮ বছরের নিচে কারও মৃত্যু হয়নি।

এ ছাড়া রোগের লক্ষণের ক্ষেত্রে এক-তৃতীয়াংশ জ্বরের কথা বলেছে। ১৭ শতাংশের নিঃশ্বাস ঘন হয়ে আসছিল। ৩০ শতাংশের অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়েছিল। আক্রান্তদের ১৪ শতাংশের আইসিইউ সুবিধা লেগেছিল, ৩ শতাংশের ডায়ালাইসিস করতে হয়েছিল।

নর্থওয়েল হেলথের গবেষকরা এই পর্যন্ত মৃত ও সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের ফাইল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পেয়েছেন। ফলে এতে আংশিকের চিত্র ফুটে উঠেছে। তবে সব রোগীর তথ্য বিশ্লেষণে এই এতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন তারা।