করোনাভাইরাস নিয়ে চলছে গবেষণা। জানা যাচ্ছে নতুন নতুন তথ্য। যত বেশি গবেষণা হবে তত উন্মোচিত হবে মরণঘাতি এই ভাইরাসের আসল চেহারা। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের ওজন বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই রোগ খুব দ্রুত গতিতে বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে। তাই বাড়তি ওজন হলে আপনাকে সাবধান হতে হবে এখনই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশের হাই ব্লাডপ্রেশারের সমস্যা ছিল, ৪২ শতাংশ ভুগতেন ডায়াবেটিসে, ২৩ শতাংশের ছিল স্থুলতার সমস্যা, ২৩ শতাংশের সমস্যা ছিল বাড়তি কোলেস্টেরল, ৮-১০ শতাংশের সমস্যা ছিল কিডনি বা হৃদযন্ত্রে। একথা ঠিক যে, স্থুলতার রোগীরা এই রোগে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে। তাই সবাইকে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

লকডাউন শুরুর পর থেকেই বাড়িতে থাকার দরুণ খ খাওয়াদাওয়া চলছে এবং সোশাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছে জমজমাট রান্নার পোস্টে। সেইসঙ্গে আমরা অনেকেই পানি কম পান করছেন, পুরো দিনের অনেকটা সময় বসে কাটাচ্ছেন এবং ক্ষুধা না পেলে বা ইচ্ছে না থাকলেও বাড়ির সবাইকে সঙ্গ দিতে গিয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খেয়ে ফেলছেন। সেটাও বন্ধ করতে হবে।

এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে যত বেশি খাবেন, তত দ্রুতহারে ওজন বাড়তে থাকবে। তাই ক্ষুধা না পাওয়া পর্যন্ত খাবেন না।

প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করাটাও একান্ত জরুরি। বিকেলবেলা একগাদা ভাজাভুজি খেয়ে ফেললেন, রাতের খাবার খেলেন অনেক দেরিতে। আবার বেলায় ঘুম থেকে উঠে সকালের খাবারের পাট চুকলো দুপুর গড়িয়ে, খানিক বাদেই আবার বসে পড়লেন ভাতের পাতে, এসব চলবে না একেবারেই।

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরুন পুরোনো রুটিনে। যারা দুপুরে ভাত খেয়ে উঠে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি করেছেন, তারাও সাবধান হোন। এত কম অ্যাকটিভিটি কারো প্রতিদিনের রুটিন হতে পারে না।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, প্রাণায়াম করুন, সিংহক্রিয়া, কপালভাতি অভ্যাস করতে পারলেও খুব ভালো হয়। চেষ্টা করুন যেন ওজন, সুগার, প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যাদের শরীর মোটের উপর সুস্থ, তাদের এই রোগ তেমন কাবু করতে পারছে না।

খুব হিসেব করে খান। এখন থেকে সাবধানে পা ফেলার এবং সুস্থ, নীরোগ জীবন কাটানোর অভ্যেস গড়ে তুলতে পারলে খুব ভালো হয়। কারণ এ কথা খুব ঠিক যে, আগামী বেশ কিছুদিন আমাদের এই রোগটির সঙ্গে লড়াই করতে হবে। তাই সব সময় সতর্ক থাকুন।