মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া নতুন করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে আরও অন্তত দেড় থেকে দুই বছর সক্রিয় থাকতে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।

বিশ্বের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের মধ্যে সংক্রমিত হয়ে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জনের পরেই প্রাণঘাতী ভাইরাসটি অকার্যকর হতে শুরু করবে বলে উল্লেখ করেছেন তারা। আগের মহামারী-গুলো নিয়ে গবেষণার ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিজ অ্যান্ড রিসার্চ পলিসি (সিআইডিআরআইপি) গত বৃহস্পতিবার নতুন করোনাভাইরাসের স্থায়িত্বকাল নিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে যে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে, তার কোনোটিতেই করোনাভাইরাস স্বল্প সময়ের মধ্যে ‘মুছে যেতে পারে’ এমন আশাবাদ মেলেনি। ১০২ ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা : কভিড-১৯ রোগ প্রতিরোধে বিশ্বজুড়ে ১০২টি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন (প্রতিষেধক) তৈরির কাজ চলছে। গত বৃহস্পতিবার নিজস্ব ওয়েবসাইটে নথি প্রকাশ করে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সূত্র : সিএনএন। সংস্থা বলছে, বিশ্বজুড়ে গবেষণাধীন সম্ভাব্য এই ১০২টি ভ্যাকসিনের মধ্যে আটটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন পেয়েছে। তবে চার দিন আগেও এ সংখ্যা ছিল সাত। নতুন করে যুক্ত হয়েছে চীনে গবেষণাধীন একটি সম্ভাব্য কভিড-১৯ ভ্যাকসিন। প্রথম সাতটি ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রয়োগ (হিউম্যান ট্রায়াল) করা হয়েছে। নতুন করে নথিভুক্ত হওয়া চীনের ওই ভ্যাকসিন এখনো মানবদেহে প্রয়োগ করা হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক এই অঙ্গসংস্থাটি।

রেমডেসিভির ব্যবহারের অনুমতি হোয়াইট হাউসের : করোনা মোকাবিলায় গত কয়েক দিনে বারবার উঠে এসেছে ‘রেমডেসিভির’ ওষুধের নাম। করোনা আক্রান্তদের ওপর জরুরিকালীন ভিত্তিতে এবার এ ওষুধ ব্যবহারের ছাড়পত্র দিল হোয়াইট হাউস। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে এ কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরী জানাচ্ছেন, যে কোনো অ্যান্টিভাইরালের কাজই হচ্ছে শরীরে বাসা বাঁধা ভাইরাসকে ধ্বংস করা এবং তার বংশবৃদ্ধি আটকে দেওয়া। এ ক্ষেত্রেও একই রকমভাবে করোনা আক্রান্তের শরীরে ওই মারণ ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি রুখে সংক্রমণ ঠেকাবে রেমডেসিভির।

গবেষকদের দাবি, দ্বিতীয়বার করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা নেই : এই প্রথম দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকরা জোর গলায় দাবি করলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্বিতীয়বার হয় না। এর আগে ‘দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হয়’ বলে খবর এসেছিল, সে ব্যাপারে এই গবেষকরা বলেছেন, টেস্টিংয়ের ভুলেই এ বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। তবে দেখা গেছে যাদের টেস্ট করা হয়েছিল তাদের একজনও দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়া নয়।