বিশ্বজুড়ে প্রলয় সৃষ্টি করেছে ছোট্ট একটা আণুবীক্ষণিক জীব নভেল করোনারভাইরাস। গুঁড়িয়ে দিয়েছে মানবজাতির সভ্যতা ও বিজ্ঞানের দম্ভ। কোন ওষুধ নেই, প্রতিষেধক নেই। শুধুই মৃত্যুর অপেক্ষা। কিভাবে উৎপত্তি হলো এই মারণ ভাইরাসের? মানুষ থেকে মানুষের ছড়িয়ে পড়ছে করোনা এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেলেও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না ঠিক কিভাবে এই ভাইরাস এসেছে মানুষের শরীরে।

নানা তথ্যই সামনে আসছে। তবে এবার মোটামুটি নিশ্চিত করে একটি তথ্য দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বলেছে, চীনের হুবেই প্রদেশের উহানের কোনও ল্যাব নয়, বরং কোনো প্রাণীর মাধ্যমে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছে।

উহানের ভাইরোলজি ল্যাবে এই ভাইরাসের জন্ম হয়েছে বলে দাবি করে সম্প্রতি মার্কিন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক তাকেসি কাসাই বলেন, এই পর্যায়ে এসে ভাইরাসটির যথাযথ উৎস নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে এখন পর্যন্ত যেসব প্রমাণ রয়েছে তাতে বলা যায়- কোনো প্রাণীর মাধ্যমেই মানুষের শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। এটা ল্যাবে তৈরি করা হয়নি।

মঙ্গলবার অনলাইন ব্রিফিংয়ে ডব্লিউএইচও’র এই উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, করোনার উৎপত্তি নিয়ে গবেষকরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাদুড়ের মাধ্যমে এই ভাইরাস আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে; তবে কিভাবে মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছে তা আমরা এখনো নিশ্চিত করে জানি না।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সূত্রের বরাত দিয়ে গত সপ্তাহে ফক্স নিউজ ও ওয়াশিংটন পোস্ট করোনাকে উহানের ল্যাব থেকে উৎপাদিত ভাইরাস বলে অভিহিত করে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই মত দেন।

করোনার উৎস নিয়ে নানা তথ্য সামনে এলেও, এখনো সঠিক করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। বিষয়টি নিয়ে জোর গবেষণা চলছে। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, গত বছরের নভেম্বর বা ডিসেম্বরে একটি বন্যপ্রাণীর মার্কেট থেকেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু।

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ২৫ লাখেরও বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪২২ জনের। 

সূত্র- সিএনবিসি।