চীনের উহান থেকে শুরু হলেও সারা বিশ্বে ছড়িযে পড়েছে করোনা। আর এই মারণ ভাইরাস উহানের বিতর্কিত ল্যাব থেকেই ছড়িয়ে পড়েছে; এমনটাই অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের। যদিও বারবার চীনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। এই বিতর্কের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল বেইজিং। উহানের ‘বিতর্কিত’ ল্যাবের সঙ্গে ফ্রান্সও যুক্ত রয়েছে। বেইজিংয়ের দাবি, ল্যাবটি চীন এবং ফ্রান্স যৌথভাবে চালায়। 

এক ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং বলেছেন, ‘উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি একটি চীন-ফরাসি সহযোগিতামূলক প্রকল্প। এর নকশা নির্মাণ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা হয়। উহানের ল্যাবে কর্মীরাও সকলে ফ্রান্স থেকেই প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।’ চীন এই দাবি করলেও ফ্রান্সের পক্ষ থেকে এখনো কিছু বলা হয়নি। এদিকে আবার করোনা উৎপত্তি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তদন্তে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে জিনপিং সরকার। 

বৃহস্পতিবার মাইক পম্পেও বলেছেন, চীনের পরীক্ষাগারেই যে করোনাভাইরাস তৈরি হয়েছিল, সে ব্যাপারে তাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ আছে। যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের মুখপাত্র  হুয়া চুনিং বলেন, উহানের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির ওই ল্যাব চীন ও ফ্রান্স সরকারের যৌথ সহযোগিতায় তৈরি। সমস্ত আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনেই এটি তৈরি করা হয়েছে এবং পরিচালনা করা হয়। পম্পেও হয়তো সে কথা জানেন না।

সম্প্রতি প্যারিসের ‘ইনস্টিটিউট প্যাস্তুর’র এক গবেষক জানিয়েছেন, কোনো এক অজানা উৎস থেকে করোনা ছড়িয়েছে চীনে। এই ভাইরাস চীন বা ইতালি যেখানে ফ্রান্সের আগে সংক্রমণ ছড়িয়েছে সেখান থেকে আসেনি। গবেষক ড. সিলভি ভ্যান ও এতিয়েন সিমোনের নেতৃত্বেন ওই গবেষণায় ওঠে এসেছে এই তথ্য।

ফ্রান্সে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার। মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার মানুষের। ইউরোপের সব দেশের মধ্যে প্রথম করোনা ধরা পড়ে এই ফ্রান্সেই। সেটা ছিল জানুয়ারি মাস। চীনসহ একাধিক দেশ থেকে আসা বেশ কয়েকজনের শরীরে প্রথম কভিড-১৯ ধরা পড়ে।

সূত্র: রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড।