ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গত বছর জেলে যান ইরানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়া ফাতেমে কিশভান্দ। এই তরুণী সাহার তাবার নামেই বেশি পরিচিত। কিশভান্দের আইনজীবী জানিয়েছেন, তার মক্কেল জেলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সিএনএন অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের প্রধান বিচারপতি ইব্রাহিম রেইসির কাছে কিশভান্দের আইনজীবী পায়াম দেরাফসান একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। মহামারির এই সময়ে কিশভান্দকে মুক্তি দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইন্সটাগ্রামে তিনি প্রকাশও করেছেন।

দেরাফসান লিখেছেন, ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে কিশভান্দের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। কিন্তু তখন তিনি অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছিলেন। আমি আপনার (প্রধান বিচারপতি) দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, কিশভান্দ জেলে থাকা অবস্থায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে আইনের মধ্যে থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আইনজীবী দেরাফসান।

এর আগে দেরাফসান ইরানের মানবাধিকার কেন্দ্রকে জানিয়েছিলেন, জেলে থাকা অবস্থায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তেহরানের সিনা হাসপাতালে ভেন্টিলেটরে (কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের যন্ত্র) চিকিৎসাধীন আছেন কিশভান্দ।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ইরানের কর্তৃপক্ষ অনেক কয়েদিকে জেল থেকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু বহু আবেদনের পরও কিশভান্দকে জেল থেকে ছাড়া হয়নি বলে জানিয়েছেন দেরাফসান।

হরর সিনেমার চরিত্রগুলোর মতো নিজেকে ‘ভয়ংকর’ করে সাজিয়ে সেসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করতেন কিশভান্দ। জনপ্রিয় হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মতো হতো গিয়ে সার্জারি করে চেহারার বেহাল দশা হয়েছে- দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার একটি ছবি ভাইরাল হয়। পরে অবশ্য জানা যায় ছবিটি আসল নয়, বানানো।

এরপর গত বছর সহিংসতা, অবৈধ শিক্ষা, ধর্ম অবমাননা, পর্দা প্রথার বিরোধিতা, ঘৃণা ছড়ানো এবং তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতিতে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে তিনি গ্রেপ্তার হন।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত দেশগুলোর একটি ইরান। দেশটিতে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মারা গেছেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ।